• ঢাকা
  • রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১, ৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫
লালমনিরহাট আওয়ামী লীগ

বিভক্তিতে বাড়ছে উত্তেজনা


লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২১, ০৪:৩৬ পিএম
বিভক্তিতে বাড়ছে উত্তেজনা

সম্প্রতি কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের কারণে বেশ কয়েকবার বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ সিনিয়র নেতা ও তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন হওয়া এবং সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কতিপয় নেতাকর্মী আচরণ করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে। মূলত কাঙ্ক্ষিত পদ পদবি না পাওয়ায় একটি পক্ষ আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছেন বলেও দাবি তাদের। 

এদিকে এসব বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা পড়েছেন বিব্রতকর অবস্থায়। সিনিয়র নেতাদের দাবি, দলের চিহ্নিত কয়েকজন নেতাকর্মী জেলা আওয়ামী লীগের ঐক্য বিনষ্ট করতে না পেরে এখন কৌশলের আশ্রয় নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত করে দলের ভাবমূর্তি নষ্টে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছেন। 

খোঁজ নিয়ে এবং সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে জানা যায়, জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয় জুন মাসের ১৭ তারিখ। ওই কমিটিতে ৩ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক থাকার কথা থাকলেও দুজনের নাম প্রকাশ পায়। এদিকে ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদটি আশা করেছিলেন আগের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা স্বপন। কিন্তু তার নাম দুই নম্বরে থাকায় অসন্তুষ্ট হন তিনি। কমিটি অনুমোদনের দিনেই সদর উপজেলার তিস্তায় লালমনিরহাট-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায় তার অনুগত সমর্থকরা। এর কিছুদিন পর ১৭ আগস্ট জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সদর উপজেলার কমিটি গঠনের বিষয়ে ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে যান কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য সফুরা বেগম রুমি। সে সময় সেখানে গোলাম মোস্তফা স্বপনের অনুগত সমর্থকরা বাঁধা দিলে দলীয় কার্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য হন কেন্দ্রীয় নেত্রী সফুরা বেগম রুমী। 

এরপর অনুগত নেতাকর্মীদের নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা স্বপন। সেখানে মিটিং করে বক্তব্য রাখেন তিনি। তার পুরো বক্তব্যটি ফেসবুকে লাইভ করে সম্প্রচার করেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন বক্কর। ফেসবুকের ওই লাইভে দেখা যায়, গোলাম মোস্তফা স্বপন অশালীন ও অশ্লীল ভাষায় কেন্দ্রীয় নেত্রী সফুরা বেগম রুমিকে গালমন্দ করেন। একজন দায়িত্বশীল জ্যেষ্ঠ নেতার এমন বক্তব্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে। 

সেই রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২১ আগস্টের আলোচনা সভায় দলীয় কার্যালয়ে শহীদ পরিবার নিয়ে বক্তব্য রাখাকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন করে সরাসরি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে দায়ী করে স্বপনের অনুগতরা। এসব কারণে যখন আওয়ামী লীগের রাজনীতির মাঠ গরম, ঠিক সে সময়েই ঘনিয়ে আসে জেলা আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটির প্রথম মিটিং ও পরিচিতি সভার। একপর্যায়ে নির্ধারিত ২২ আগস্টের বদলে ৪ সেপ্টেম্বর মিটিংয়ের তারিখ ঘোষণা দেওয়া হলে ৩ সেপ্টেম্বর শহর জুড়ে দেখা যায় পাল্টাপাল্টি মোটরসাইকেল শোডাউন। ফলে ৪ সেপ্টেম্বরের মিটিংকে ঘিরে গোটা শহর নিছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলে পুলিশ ও র‌্যাব। এদিন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও জেলা কমিটির মিটিংয়ে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের একটি শূন্য পদে সাখাওয়াত হোসেন সুমনকে কো-অপ্ট করায় ফের উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এরই প্রেক্ষিতে পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর জেলা শহরের জনতা মোড়ে পদ বঞ্চিত আওয়ামী লীগ পরিবারের ব্যানারে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 

ওই মানববন্ধনের নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম ও পৌর যুবলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন। ওই মানববন্ধনে নেতারা সাখাওয়াত হোসেন সুমনকে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক করার প্রতিবাদ জানান। এদিকে মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন নেতাকর্মী ছবি পোস্ট করে দাবি করেন, পদ বঞ্চিত আওয়ামী লীগ পরিবারের মানববন্ধনে জাপা ও বিএনপির কর্মীরাও অংশ নিয়েছেন। 

এসব বিষয়ে কথা বলতে গোলাম মোস্তফা স্বপনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি। তবে জানতে চাইলে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের তৃণমূল একাধিক নেতাকর্মীরা জানান, দলে পদ পদবি পাওয়ার জন্য বিরোধিতা করতে গিয়ে এবং দল ভারী করতে গিয়ে এখন বিএনপি জাতীয় পার্টির লোকজনকেও ভাড়া করে এনে মানববন্ধন করা হচ্ছে। যা দলের ভাবমূর্তি নষ্টের অশনি সংকেত।

লালমনিরহাট পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন বলেন, “কিছু নেতা তাদের বক্তব্যে এমন সব ভাষা প্রয়োগ করছেন যা রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত।’ 

জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, “দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই বিরোধী শক্তির ইন্ধনে এসব পরিকল্পিত ভাবে করছে একটি চিহ্নিত সিন্ডিকেট।” 

অবশ্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান বলেন, “বর্তমানে যেকোনো সময়ের চেয়ে লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগ সুসংগঠিত এবং ঐক্যবদ্ধ। যারা বিভিন্ন ভাবে অরাজকতা সৃষ্টি করে দলীয় শৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা করছেন এর দায় তাদেরই নিতে হবে।”

Link copied!