• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১,

জুম কাটার প্রতিবাদে নাগরিকবন্ধন


সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২১, ০৮:৩৬ পিএম
জুম কাটার প্রতিবাদে নাগরিকবন্ধন

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন পুঞ্জিতে খাসিয়া আদিবাসীদের ওপর হামলা ও তাদের জুম কাটার করার প্রতিবাদে সিলেটে নাগরিকবন্ধন করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), সিলেট।

মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৪টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদমিনার প্রাঙ্গণে এ নাগরিকবন্ধনের আয়োজন করা হয়।

এ সময় বক্তারা বলেন, ডলুছড়া ও ভেলুয়া পুঞ্জিতে সামাজিক বনায়নের নামে খাসিয়াদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তাদের উচ্ছেদ করতে বার বার হামলা করা হচ্ছে। শিশু সন্তানের সামনে বাবাকে পিটিয়ে আহত করা হচ্ছে। খাসিয়া আদিবাসীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টির মাধ্যমে আতঙ্কিত করে তোলা হচ্ছে। যা স্বাধীন একটি দেশের জন্য লজ্জার।

বাপা সিলেটের সহ-সভাপতি ড. নাজিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্যে বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এতে বড় হুমকিতে রয়েছেন খাসিয়ারা। আর এর মূল কারণ বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের নামে প্রাকৃতিক বন ধ্বংসের পাঁয়তারা। যে জায়গায় প্রাকৃতিক বন রয়েছে, সেখানে সামাজিক বনায়নের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

নাগরিকবন্ধনে আদিবাসী পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব ফাদার জোসেফ গোমেজ বলেন, সামাজিক বনায়নের একটি নিয়ম আছে। কিন্তু এখানে বন বিভাগ কোনো নিয়মই রক্ষা করছে না। যার কারণে ভূমিখেকো ও বনখেকোদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। চলমান বিরোধের জেরে কর্মধা ইউনিয়নের ভেলুয়াপুঞ্জিতে ৫টি খাসিয়া ও গারো পরিবারের ২ হাজার ৮ শতাধিক পান গাছ কাটা হয়। অতিমারির সময় জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন পান গাছ কাটার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পুঞ্জিবাসী পরিবারগুলো আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয় এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। এ ঘটনায় ভেলুয়াপুঞ্জির হেডম্যান ৮ জনকে অভিযুক্ত করে কুলাউড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। অদ্যাবধি এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।

এ সময় বক্তব্য দেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সিলেট মহানগরের সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, তথ্যচিত্র নির্মাতা নিরঞ্জন দে যাদু, বাসদ (মার্কসবাদী) সিলেট জেলার আহ্বায়ক উজ্জ্বল রায়, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছামির মাহমুদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম সিলেট শাখার সভাপতি গৌরাঙ্গ পাত্র, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়র নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আ ফ ম জাকারিয়া, ভাষাসংগ্রামী আব্দুল মতিন চৌধুরী মিউজিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার, প্রেসবিটারিয়ান চার্চ নয়াসড়কের চেয়ারম্যান ডিপক নিঝুম সাংমা, হাইকোর্টের আইনজীবী সুদীপ্ত অর্জুন, গণজাগরণ মঞ্চ সিলেটের মুখপাত্র দেবাশীষ দেবু, দুষ্কাল প্রতিরোধে আমরা’র সংগঠক রাজীব রাসেল, খাসি স্টুডেন্ট ইউনিয়নের সিলেট শাখার সভাপতি এলিজাক তাংওং, সানডে পোডাং প্রমুখ।

এছাড়া উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর আলম শাহান, সামাজিক সংগঠন উষার তমিস্রা তিথি, মেঠোসুরের বিমান তালুকদার, হাওর বাঁচাও আন্দোলন বিশ্বনাথের আহ্বায়ক সাজিদুর রহমান সোহেল, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রতিনিধি মোহাম্মদ আরিফ খান ও মো. আমিনুর রশিদ, সুরমা রিভার ওয়াটারকিপারের মুজাহিদ হোসেন মুনিম, বাপা সিলেট শাখার শাহিন আহমেদ সিদ্দিকী ও রুবেল মিয়া, মঈন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যাপক মো. মাহবুব রউফ, মুন্ডা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি শৈলেন মুন্ডা, ওঁরাও জনগোষ্ঠীর অরুন মা’ল প্রমুখ।

নাগরিকবন্ধনে বক্তারা খাসিয়াদের প্রকৃতির সন্তান উল্লেখ করে তাদেরকে ভূমির মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

Link copied!