ফুটবল মানেই নাটক- আর সেই নাটকের সবচেয়ে বড় উদাহরণ যেন দেখা গেল কাতার বনাম সুইজারল্যান্ড ম্যাচে। পুরো ম্যাচজুড়েই আধিপত্য দেখিয়েও শেষ মুহূর্তে জয় হাতছাড়া করল সুইসরা। স্টপেজ টাইমে অধিনায়ক হাসান আল-হায়দোসের নিখুঁত ক্রস থেকে আলমোইজ আলি কুখির দুর্দান্ত হেডে সমতায় ফেরে কাতার।
ফলে গ্রুপ বি’র এই ম্যাচ শেষ হয় ১-১ গোলে, যেখানে কাতার প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচ থেকে ঐতিহাসিক এক পয়েন্ট তুলে নেয়। বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসে প্রথম পয়েন্ট পেলো কাতার। এর আগে ২০২২ বিশ্বকাপে খেলেছিল তারা। সেবার ৩ ম্যাচের প্রতিটিতেই হেরেছিল তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল সুইজারল্যান্ড। মাত্র ৩ মিনিটেই গোলের সুবর্ণ সুযোগ মিস করেন এডমিলসন জুনিয়র। এরপর ১০ মিনিটের মধ্যেই একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে ইউরোপীয়রা।
১৫ মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়- ফ্রেয়ুলারকে বক্সে ফাউল করেন কাতার গোলরক্ষক আবু নাদা। ভিএআর যাচাইয়ের পর পেনাল্টি পায় সুইজারল্যান্ড। শান্তভাবে স্পট কিক থেকে গোল করেন ব্রিল এমবলো। এটি ছিল তার বড় টুর্নামেন্টে জাতীয় দলের হয়ে ৬ষ্ঠ গোল।
গোল হজম করলেও কাতার ম্যাচে টিকে থাকে মূলত গোলরক্ষক আবু নাদার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে। প্রথমার্ধেই তিনি অন্তত ৫টি নিশ্চিত গোল বাঁচান। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড ছিল একের পর এক সুযোগ নষ্টের প্রতিযোগিতায়। নডোয়ে, ভারগাস এবং অ্যাবিশার মিলে একাধিক সহজ সুযোগ মিস করেন। এমনকি ৪৫+৫ মিনিটে এমবোলোর শট গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করে কাতারকে রক্ষা করেন আল-ওই। পরিসংখ্যান বলছে, প্রথমার্ধে সুইজারল্যান্ডের ছিল ২.১৭, যেখানে কাতারের মাত্র ০.৪৫।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র দেখা যায়। সুইজারল্যান্ড বল দখলে প্রায় পুরো সময়ই আধিপত্য ধরে রাখে, আক্রমণের পর আক্রমণ চালায়, কিন্তু ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। ৭৬ মিনিটে এমবলো আবারও গোলের খুব কাছে গিয়েও ব্যর্থ হন, তার শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। ৮১ মিনিটে মানজাম্বির শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কাতার তখন শুধু রক্ষণ সামলানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু গোলরক্ষক ও ডিফেন্সের দৃঢ়তায় তারা ম্যাচে টিকে থাকে।
ম্যাচের বয়স যখন প্রায় শেষ, তখনই আসে চূড়ান্ত নাটক। ৯০+৪ মিনিটে বাম দিক থেকে দারুণ ক্রস দেন আহমেদ। সেই বল মাথায় নিয়ে সুইস ডিফেন্ডারদের ছাপিয়ে শক্তিশালী হেডে গোল করেন অধিনায়ক কুখি। পুরো স্টেডিয়াম তখন বিস্ফোরিত-কাতার সমতায় ফিরে আসে ১-১ ব্যবধানে।
শেষ মুহূর্তে সুইজারল্যান্ড আবারও কর্নার থেকে সুযোগ তৈরি করলেও কাতারের গোলরক্ষক তা মুঠোবন্দি করে বিপদ দূর করেন। ম্যাচজুড়ে সুইজারল্যান্ডের শট সংখ্যা ছিল ২০-এর বেশি, বল দখল ও আক্রমণে তারা ছিল অনেক এগিয়ে, কিন্তু ফুটবলের নিষ্ঠুর বাস্তবতায় জয়টা তাদের হাতে আসেনি।
এই ড্র কাতারের জন্য ঐতিহাসিক- বিশ্বকাপে তাদের প্রথম পয়েন্টের স্বাদ। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের জন্য এটি বড় হতাশা, কারণ পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রেখেও তারা শেষ মুহূর্তে জয় হারায়।


























