ইতিহাস বারবার তাদের কাছাকাছি এনেছে কিন্তু ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে দুজনকে কখনো মুখোমুখি করেনি। প্রায় এক দশক স্পেনের লিগে খেলেছেন, এল ক্ল্যাসিকোর উত্তাপে একে অপরকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, ব্যালন ডি’অর পালা করে নিজেদের করে নিয়েছেন। কিন্তু বিশ্বকাপে কখনোই দেখা হয়নি লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর।
তবে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপ হয়তো ফুটবলপ্রেমীদের সেই অপূর্ণতার অবসান ঘটাতে পারে। এবারের আসরের যে সূচি, তাতে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের মুখোমুখি হওয়ার একাধিক পথ তৈরি হয়ে আছে। আর তেমনটা ঘটলে ৩৯ বছর বয়সী মেসি আর ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর ‘লাস্ট ড্যান্স’ বিশ্বমঞ্চেই দেখা যেতে পারে।
এবারের আসরে গ্রুপ পর্বে মেসির আর্জেন্টিনা গ্রুপ ‘জে’তে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া এবং জর্ডানের বিপক্ষে লড়বে। অন্যদিকে রোনালদোর পর্তুগাল গ্রুপ ‘কে’তে খেলবে ডিআর কঙ্গো, উজবেকিস্তান এবং কলম্বিয়ার বিপক্ষে। কাগজে-কলমে দুটি গ্রুপই দুই পরাশক্তির জন্য বেশ অনুকূল এবং দুই দলেরই প্রত্যাশিত ফল গ্রুপসেরা হওয়া।
যদি আর্জেন্টিনা এবং পর্তুগাল নিজ নিজ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ বত্রিশে ওঠে এবং পরবর্তী রাউন্ডগুলোর বৈতরণী পার হতে পারে, তবে মেসি-রোনালদোর দেখা হয়ে যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে। সে ক্ষেত্রে শেষ বত্রিশ এবং শেষ ষোলোর নকআউট ম্যাচে জিততে হবে দুই দলকেই। আর্জেন্টিনার জন্য সম্ভাব্য কঠিন বাধা হতে পারে শেষ বত্রিশে উরুগুয়ে, তবে পর্তুগালের পথ কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত অনেকটাই মসৃণ।
তবে সমীকরণ ওলটপালট হয়ে যদি দুই দলই নিজেদের গ্রুপে রানার্সআপ বা দ্বিতীয় হয়, তবে আরও আগেই অর্থাৎ শেষ ষোলোর মঞ্চেই দেখা হয়ে যেতে পারে এই দুই মহাতারকার। অবশ্য তার আগে আর্জেন্টিনাকে শেষ বত্রিশে স্পেন এবং পর্তুগালকে ক্রোয়েশিয়া-বাধা টপকে আসতে হবে, যা বেশ কঠিন এক সমীকরণ।
সবচেয়ে রোমাঞ্চকর বা রূপকথার পথটি তৈরি হবে যদি এক দল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন এবং অন্য দল গ্রুপ রানার্সআপ হয়। সে ক্ষেত্রে টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী মেসি-রোনালদোর দেখা হওয়ার সম্ভাব্য একমাত্র মঞ্চ হবে ফাইনাল। এই স্বপ্নিল ফাইনাল বাস্তবায়ন করতে হলে দুই দলকেই টানা চারটি নকআউট ম্যাচ জিতে আসতে হবে।
এর আগে মেসি ও রোনালদো সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিলেন ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে, সৌদি আরবের একটি প্রীতি ম্যাচে। সেদিন রিয়াদ অল স্টারসের হয়ে রোনালদো আর পিএসজির হয়ে মেসি মাঠে নেমেছিলেন। বর্তমানে মেসি খেলছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামিতে আর রোনালদো মাতাচ্ছেন আল নাসর। ক্লাব ফুটবলের ভিন্ন দিগন্তে থাকা এই দুই কিংবদন্তির ফুটবল মাঠে আরেকবার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাব্য শেষ সুযোগ হয়তো এই বিশ্বকাপই।






















