তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির নতুন অ্যাডহক কমিটি


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৭, ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম
তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির নতুন অ্যাডহক কমিটি

মিরপুরের বিসিবি কার্যালয়ের সামনে ছোট ছোট জটলা। কারও কারও কণ্ঠে স্লোগান। তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির নতুন অ্যাডহক কমিটিকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছেন তাঁরা। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের বিসিবি কার্যালয়ে তামিম এসেছেন বহুবার। তবে আজকের আসাটা ছিল আলাদা।
কালো ব্লেজার পরে গাড়ি থেকে নামার পরমুহূর্তেই তামিমকে ঘিরে ধরে অসংখ্য ক্যামেরা। এ দৃশ্যটাও তাঁর জন্য নতুন নয়। তবে তামিমের জন্য নতুন—বোর্ড কার্যালয়ে গিয়ে তিনি যে চেয়ারটাতে বসলেন সেটি। এবার যে তিনি বিসিবিতে এসেছেন সভাপতি হয়ে!
অথচ দুপুরেও এমন দৃশ্য কারও কারও জন্য ছিল ভাবনার বাইরে। আমিনুলের নেতৃত্বে বিসিবির কমিটি ভেঙে যেতে পারে, এমন গুঞ্জন কয়েক দিন ধরেই ছিল। তবে তা যে আজই হবে, সেটি সম্ভবত ভাবতে পারেননি আমিনুলের বোর্ডের পরিচালকেরা।
দুপুরে পূর্বাচল স্টেডিয়াম পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন সদ্য সাবেক সভাপতি আমিনুল, তাঁর কথায় ছিল মাঠ নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক যখন বিসিবি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন, তার ঘণ্টাখানেক আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সহসভাপতি ফারুক আহমেদও। তাঁদের যে বিদায় নিতে হচ্ছে, সেই আঁচ পাওয়া যায়নি তাঁর কথাতেও।

এনএসসিতে সংবাদ সম্মেলন চলার সময়েও আমিনুল, নাজমূল আবেদীন ও খালেদ মাসুদ ছিলেন মিরপুরের বিসিবি ভবনে। ওই ঘোষণা শেষ হতেই একে একে বিসিবি ছাড়তে শুরু করেন তাঁরা। গণমাধ্যমকর্মীদের আগ্রহ থাকলেও তখন অবশ্য মুখ ভার করে বিসিবি ছাড়া পরিচালকদের কেউই আর কোনো কথা বলেননি।

এর ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যই বিসিবি কার্যালয়ে আসেন তামিম। তখনো সেখানে শত শত মানুষের ভিড়। ভিড় পেরিয়ে বিসিবি কার্যালয়ে গিয়ে তামিম বসেন সভাপতির চেয়ারে। কিছুক্ষণের জন্য গিয়েছিলেন জাতীয় দল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের রুমেও।
পরে অ্যাডহক কমিটির ১১ সদস্য নিয়ে বোর্ড সভায় বসেন তামিম। সভা শেষে জানানো হয়, আইসিসি ও এসিসিতে তামিমকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বোর্ডের মুখপাত্র করা হয়েছে তানজিল চৌধুরীকে।

মিনিট কয়েকের ছোট্ট প্রতিক্রিয়ায় তামিম বলেন, ‘সাধারণত এমন দায়িত্ব পেলে অনেকেই ডেভেলপমেন্টসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন; কিন্তু আমি ও আমার দল একসঙ্গে অনুভব করছি— আমাদের প্রথম ও প্রধান কাজ হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সুনাম পুনরুদ্ধার করা। গত দেড় বছরে যে সুনামের ক্ষতি হয়েছে, সেটি ঠিক করাই আমাদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।’

তামিমের নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিন মাসের জন্য। এ সময়ের মধ্যে তাদের নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এই দায়িত্বও ঠিকভাবে পালন করতে আশাবাদী তিনি, ‘আমরা চেষ্টা করব এ কাজটি যত দ্রুত এবং যতটা সম্ভব সৎভাবে সম্পন্ন করতে।’

অ্যাডহক কমিটির কেউ সভাপতি হিসেবে নির্বাচন করতে পারবেন কি না, এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক এমন প্রশ্নের উত্তরটা ঠিকঠাক দেননি। আজ তামিম জানিয়েছেন, অ্যাডহক কমিটির কেউ চাইলে নির্বাচন করতে পারেন। তিনি নিজে নির্বাচন করবেন জানিয়ে তামিম বলেন, ‘আমরা চাই, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হোক, যেখানে আগ্রহী সবাই অংশগ্রহণ করবেন—ক্রিকেটার, সংগঠক, সংশ্লিষ্ট সবাই।’
মিনিট পাঁচেকের সংবাদ সম্মেলন ছেড়ে যাওয়ার সময়ও তামিমের পেছনে ছিল অসংখ্য ক্যামেরা। খেলোয়াড়ি জীবনের শুরু থেকে তারকাখ্যাতি পাওয়া এই সাবেক অধিনায়ক তাতে অভ্যস্তই। তবে তিনি যে পথে পা বাড়িয়েছেন, তাতে একটি ভিন্ন চ্যালেঞ্জ আছে।

আগের ১২ বছরে একজনকেই (নাজমুল হাসান) সভাপতি হিসেবে দেখা বিসিবি গত ২০ মাসেই নেতৃত্বে পেয়েছে তিনজনকে। তামিমের আগের দুজন আমিনুল আর ফারুকও তাঁর মতোই ছিলেন সাবেক অধিনায়ক। তাদের ব্যর্থতা নিয়ে সরব তামিমের কাঁধে এবার এসে পড়েছে ক্রিকেট বোর্ডের ভার। যে চ্যালেঞ্জটা তিনি নিজেই নিতে চাইছিলেন অনেক দিন ধরে। সর্বশেষ নির্বাচনে পরিচালক পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েও ‘অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা’র অভিযোগে পরে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।
এখন তিন মাসের জন্য অ্যাডহক কমিটির প্রধান হয়ে তামিম আপাতত লক্ষ্য ঠিক করেছেন দুটি— বিসিবির ‘হারানো’ সুনাম ফেরানো এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন। তিনি তাতে কতটা সফল হবেন, সে প্রশ্নের উত্তর সময়ের হাতেই তোলা থাকল।

Link copied!