শেষ মুহূর্তের ধস

সাগরিকার জোড়া গোলের লিডের পরও হারল বাংলাদেশ


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০২৬, ১১:৩০ এএম
সাগরিকার জোড়া গোলের লিডের পরও হারল বাংলাদেশ

রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি আক্তার বক্সের ভেতরেই শুয়ে পড়েন। ডিফেন্ডার আফিদা খন্দকার তাকে তুলে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন। তবে মিলির মতো আরও অনেকেই তখন বিমর্ষ। দুই গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হারের বেদনায় নীল পুরো বাংলাদেশ দল।
গত রাতটি বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে অন্যরকম হয়ে উঠতে পারত। সিনিয়র নারী দল সম্প্রতি প্রথমবার এশিয়া কাপে অংশ নিয়ে তিন ম্যাচেই হেরেছে এবং একটি গোলও করতে পারেনি। সেই তুলনায় অনূর্ধ্ব-২০ নারী দল প্রথম ম্যাচেই দুই গোল করে জয় বা অন্তত ড্রয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল। কিন্তু ৬৯ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থাকার পর মাত্র পনেরো মিনিটে তিন গোল হজম করে এশিয়ান মঞ্চে প্রথম পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ হারায় বাংলাদেশ।
মেধাবী ফুটবলার মোসাম্মৎ সাগরিকা প্রথমার্ধে একক প্রচেষ্টায় গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে তিনি আরও একটি গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর যখন স্বাগতিক থাইল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ, তখনই ডিফেন্সে শুরু হয় চরম ভাঙন।
সুরমা জান্নাত ও নবীরন কয়েক মিনিটের ব্যবধানে থাই ফরোয়ার্ডদের পেছন থেকে ফাউল করেন, যা থেকে দুটি পেনাল্টি পায় থাইল্যান্ড। দুই পেনাল্টি থেকেই গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরায় স্বাগতিকরা।
সমতায় ফেরার পর ম্যাচে আরও প্রাধান্য বিস্তার করে থাইল্যান্ড। বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের ওয়ান-টু পাসে কাটিয়ে আরেকটি গোল আদায় করে তারা। পরপর দুটি পেনাল্টির কারণে বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা কিছুটা সংকোচে পড়ে যাওয়ায় তৃতীয় গোল ঠেকাতে পারেনি দলটি।
৮০ মিনিটে ৩-২ ব্যবধানে পিছিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশ সমতা ফেরানোর চেষ্টা চালালেও কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। ফলে সম্ভাবনাময় শুরু সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে কোচ পিটার বাটলারের শিষ্যদের।
নারী ফুটবলে থাইল্যান্ড শক্তিশালী একটি দল। সিনিয়র দল একাধিকবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে এবং এশিয়া কাপে নিয়মিত খেললেও এবারই প্রথম তারা সুযোগ পায়নি। এর আগে এশিয়া কাপের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ সিনিয়র দল থাইল্যান্ডে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল এবং উভয় ম্যাচেই হেরেছিল। তবে আজকের ম্যাচে শুরুটা ছিল দারুণ।
শুরু থেকেই সমানে সমান লড়াই করে বাংলাদেশ। কোচ পিটার বাটলার হাই-লাইন ডিফেন্স কৌশলে দল সাজান। এতে একদিকে থাইল্যান্ডের দ্রুত আক্রমণ ঠেকানো কঠিন হচ্ছিল, অন্যদিকে একাধিকবার অফসাইড ফাঁদেও ফেলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।
ম্যাচের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্ত আসে ৩১ মিনিটে। বাংলাদেশের অর্ধ থেকে মহতী একটি থ্রু পাস দেন সাগরিকার উদ্দেশ্যে। তিন ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে প্রায় ৪৫ গজ দূরত্ব পাড়ি দিয়ে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন তিনি। এতে বাংলাদেশের ডাগআউট ও গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
পুরো ম্যাচজুড়েই বাংলাদেশ গোলের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেছে। মিডফিল্ডার স্বপ্না রানী দূরপাল্লার শট নেন কয়েকবার, যদিও কোচ প্রথমার্ধেই তাকে তুলে নেন।
সব মিলিয়ে দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ মুহূর্তের ভুলে ম্যাচ হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ। এশিয়ান মঞ্চে প্রথম পয়েন্টের স্বপ্ন তাই আপাতত অপূর্ণই রয়ে গেল।

Link copied!