সুচিত্রা সেনের জন্মদিনে উঠে এল মা-মেয়ের স্মৃতি


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, ১১:০১ পিএম
সুচিত্রা সেনের জন্মদিনে উঠে এল মা-মেয়ের স্মৃতি

সুচিত্রা সেন— নামটি উচ্চারণ করলেই যেন ভেসে ওঠে এক অনন্য আভিজাত্য, এক নীরব সৌন্দর্যের জগৎ। তাঁর ৯৬তম জন্মদিনে কন্যা মুনমুন সেন-এর স্মৃতিচারণ যেন খুলে দিল সেই ব্যক্তিগত জীবনের নরম, অদেখা দরজা।

বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের সেই ঐতিহ্যবাহী বাড়ি— যেখানে একদিকে রুপোলি পর্দার কিংবদন্তি, অন্যদিকে এক মমতাময়ী মা। সাদা-কালো ছবির পাশে সাদা লিলি, আর সেই আবহে মুনমুন সেনের মিষ্টি হাসি— সব মিলিয়ে যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে এক রূপকথা।

মায়ের চুড়ি হাতে পরে থাকা মেয়ে যখন স্মৃতি বলেন, তখন তা আর শুধুই গল্প থাকে না— হয়ে ওঠে সময়ের দলিল। “দেবী চৌধুরাণী” ছবির শাড়ি কেনা থেকে শুরু করে ব্লাউজ ডিজাইন— দেবী চৌধুরাণী-এর চরিত্র গঠনে সুচিত্রা সেনের নিজস্ব ভাবনা ছিল গভীর। আর সেই সৃষ্টির অংশীদার ছিলেন তাঁরই মেয়ে।

ছোট্ট মুনমুনের হাতে আঁকা আলপনা দেখে মায়ের খুশি হওয়া, কিংবা শুটিংয়ের কনের সাজে মায়ের কপালে মেয়ের হাতের চন্দন— এই দৃশ্যগুলো যেন বলে দেয়, তাদের সম্পর্ক শুধু মা-মেয়ের সীমায় আটকে ছিল না, বরং ছিল এক আন্তরিক বন্ধুত্বের বন্ধন।

ফরিয়াদ ছবিতে গাউনের ডিজাইন করা ছোট্ট মেয়েটি, কিংবা পিয়ানো বাজানো শেখার সময় মায়ের উৎসাহ— এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই গড়ে তোলে বড় মানুষদের জীবনের ভেতরের গল্প।

একদিকে আলো ঝলমলে চলচ্চিত্র জগৎ, অন্যদিকে সংসারের নীরবতা— এই দুইয়ের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রাখতেন সুচিত্রা সেন, সেই প্রশ্নের উত্তর আজও রহস্যেই ঢাকা। তবে মুনমুন সেনের স্মৃতিতে স্পষ্ট— তিনি ছিলেন শুধু মহান অভিনেত্রী নন, ছিলেন এক নিবেদিতপ্রাণ মা।

এই গল্প শুনতে শুনতে মনে পড়ে যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর সেই লাইন—
“সখীরে সাজাব সখার প্রেমে”—
যেখানে ভালোবাসা, বন্ধুত্ব আর স্নেহ একাকার হয়ে যায়।

সুচিত্রা সেনের জন্মদিন তাই শুধু একজন অভিনেত্রীর স্মরণ নয়— এটি এক মায়ের, এক নারীর, এক সম্পর্কের গভীরতার উদযাপন।

তথ্য সূত্র : আনন্দ বাজার

Link copied!