ট্রাম্পের ভাষণ

ইরান যুদ্ধে বড় সাফল্যের দাবি


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০২৬, ১১:১৪ এএম
ইরান যুদ্ধে বড় সাফল্যের দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় সময় রাত ৯টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ শুরু করেন। হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এ ভাষণের শুরুতেই তিনি নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের সফল উৎক্ষেপণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং যাত্রা করা নভোচারীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন।
এরপর তিনি এক মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ নিয়ে কথা বলেন। ট্রাম্প দাবি করেন, “আজ ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরানের বেশির ভাগ নেতারা মারা গেছে।” তিনি আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে খর্ব হয়েছে।
ট্রাম্প ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোকেও ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, “তাঁরা অসাধারণ কাজ করেছে। আমরা কোনোভাবেই তাদের ব্যর্থ হতে দেব না।”
তিনি আরও বলেন, ইরান বহু দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে, যা প্রমাণ করে দেশটির কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়।
ভাষণে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে দ্রুত আটক করতে পারায় মার্কিন সেনাদের ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, এ ঘটনা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক এখন ভালো যাচ্ছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল নয়।
ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদের সময় ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার অভিযানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি সোলাইমানিকে ‘রাস্তার ধারে পেঁতে রাখা বোমার হোতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “সোলাইমানি এখনো বেঁচে থাকলে আজ রাতের আলোচনা ভিন্ন হতো। তবে তবুও আমি জিততাম, বড় জয় পেতাম।”
ইরান যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, গত ৪৭ বছরে ইরানের ‘সন্ত্রাসী হামলার’ দীর্ঘ তালিকা রয়েছে এবং দেশটির সরকারে থাকা ব্যক্তিদের ‘ঠগ’ ও ‘খুনি’ বলে অভিহিত করেন।
এছাড়া তিনি বলেন, ইরানের এমন নেতৃত্বকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেওয়া যাবে না। “আমি তা হতে দেব না,” বলেন ট্রাম্প।
ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে তেল আমদানির প্রয়োজন নেই। যেসব দেশের মধ্যপ্রাচ্যের তেলের প্রয়োজন, তাদের নিজেদেরই হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার দায়িত্ব নিতে হবে।
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই যুদ্ধ একটি ‘সফল বিনিয়োগ’। তিনি বলেন, “মার্কিনিরা আর ইরানের হামলার হুমকিতে নেই। তারা আর পরমাণু আতঙ্কে নেই।” যুক্তরাষ্ট্র এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি নিরাপদ, শক্তিশালী ও উন্নত হবে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রায় ১৯ মিনিটের বক্তব্যের মাধ্যমে ভাষণ শেষ করেন ট্রাম্প।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
==
 

Link copied!