এনামুল হক বিজয়ের ঝড়ো পঞ্চাশোর্ধ ইনিংসের পর মিডল অর্ডারের ব্যাটারদের ব্যর্থতায় হার চোখ রাঙাচ্ছিল ফরচুন বরিশালকে। তবে শেষদিকে ব্যাট হাতে টর্নেডো ইনিংস খেলে বরিশালের জয় নিশ্চিত করেছেন আফগান অলরাউন্ডার করিম জান্নাত।
চার বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেট হারিয়ে চট্টগ্রামের দেওয়া ১৬৯ রানের লক্ষ্য টপকে গিয়েছে বরিশাল। চট্টগ্রামের বিপক্ষে তিন উইকেটের ব্যবধানে জিতে চলতি বিপিএলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে সাকিব আল হাসানের বরিশাল।
শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের শুরুতেই উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে মেহেদী মারুফকে ফিরিয়ে দেন বরিশালের পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র।
একপ্রান্তে ম্যাক্স ও দাউদ থিতু হলেও রান করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ফিরে যান উন্মুক্ত চাঁদ। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৬ রান।
এরপর চার নম্বরে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসি ব্যাটিং শুরু করেন আফিফ হোসেন। দলীয় ৭৮ রানে দাউদ ফিরলে ভাঙে তাদের ৪২ রানের জুটি।
দাউদ ফেরার পর মাত্র সাত রানের ব্যবধানে ফিরে যান চট্টগ্রাম অধিনায়ক শুভাগত হোম। এরপর দলীয় ১০২ রানে ফিরে যান আফিফও। ফেরার আগে ২৩ বলে ৩৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি।
এরপর চট্টগ্রামকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন কার্টিস ক্যাম্পার। এই ব্যাটারের ব্যাট থেকে আসে ২৫ বলে চারটি চার ও দুই ছক্কায় ৪৫ বলের টর্নেডো ইনিংস। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৬৮ রানের সংগ্রহ পেয়েছে চট্টগ্রাম।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সাইফ হাসান ও এনামুল হক বিজয়ের ওপেনিং জুটিতে ঝড়ো শুরু পায় বরিশাল। ব্যক্তিগত ১০ রানে সাইফ ফিরলে ভাঙে ট্যাঁদের ৪৮ রানের জুটি।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বরিশাল অধিনায়ক সাকিব আল হাসান অবশ্য এদিন ব্যর্থ। ফিরেছেন মাত্র দুই রানেই। সাকিব ফেরার পরের বলেই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে ফিরিয়ে দেন চট্টগ্রামের স্পিনার নাহিদুজ্জামান। রানের খাতাই খুলতে পারেননি রিয়াদ।
এরপর দ্রুতই চাতুরাঙ্গা ডি সিলভাকেও ফিরিয়ে চট্টগ্রামকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেন স্পিনার নাহিদুজ্জামান। একপ্রান্তে অন্যরা দ্রুত ফিরলেও রানের চাকা সচল রেখেছিলেন বিজয়।
দলীয় ১১৩ রানে ফেরার আগে বিজয়ের ব্যাট থেকে এসেছে ৬ চার ও সমান ছক্কায় ৫০ বলে ৭৮ রানের ইনিংস। বিজয় ফেরার পর মাত্র চার রানের ব্যবধানে ইফতিখার আহমেদও ফিরে গেলে চাপে পড়েছিল বরিশাল।
এরপর ব্যাট হাতে টর্নেডো চালিয়ে চট্টগ্রামের হাতের মুঠো থেকে বরিশালকে জয় এনে দেন আফগান অলরাউন্ডার করিম জান্নাত। জয় থেকে মাত্র দুই রান দূরে আউট হওয়ার আগে ৩ চার ও ২ ছক্কায় মাত্র ১২ বলে ৩১ রান করেন তিনি।
অন্যপ্রান্তে ১৪ বলে ১৮ রানের ইনিংসে করিমকে দুর্দান্তভাবে সহায়তা করেন সালমান হোসেন। শেষ পর্যন্ত চার বল বাকি থাকতেই সাত উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌছে যায় বরিশাল। আট ম্যাচে চলতি আসরে এটা বরিশালের ষষ্ট জয়।



























