স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এক বক্তব্য ঘিরে সংসদে উত্তেজনার পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি চিন্তিত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয় আজ। প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য ঘিরে দেখা দেয় উত্তেজনা।
এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি চিন্তিত। আজকে একে অপরকে কথা বলার সুযোগকে যেভাবে বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা দেখেছি, এটা সংসদের জন্য ভালো লক্ষণ না।’
‘অতীতে দেশের সংসদের অনেক খারাপ রেকর্ড রয়েছে। এমনকি বাংলাদেশের সংসদে স্পিকারকে পর্যন্ত হত্যা করা হয়েছিল,’ স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
স্পিকার যে তথ্যের উল্লেখ করেছেন, তা ঘটেছিল ১৯৫৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে।
সেদিন অধিবেশনে সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী পাটোয়ারীর মাথায় ভারী কাঠের ডেস্কের অংশ বা অন্য একটি বস্তু দিয়ে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। নজিরবিহীন ওই ঘটনার পরের মাসেই পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হয়েছিল।
নিজের ৪০ বছর সংসদে থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণের সঠিক নির্বাচনের মাধ্যমেই বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে।
সরকারি ও বিরোধী দল—উভয়পক্ষের সদস্যদের ধৈর্য ধারণ করে সংসদের কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
অনেক কষ্টে অর্জিত গণতন্ত্র রক্ষায় সব সংসদ সদস্যের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্পিকার বলেন, ‘আপনাদের বলব সংসদের রুলস অব প্রসিডিউর পড়ুন। স্পিকার যখন কথা বলে তখন সবাইকে বসে শুনতে হয়। এই আইন-নীতি যদি না মানেন, ভঙ্গ করেন, তাহলে এই সংসদ বেশিদিন চলবে না।’
যেভাবে উত্তেজনা শুরু
অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন। তার প্রশ্ন ছিল- ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কি সফল হয়েছেন, নাকি ব্যর্থ হয়েছেন?
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘স্পিকার, এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা হলো, বুঝতে পারিনি।’
এরপর শফিকুল ইসলাম মাসুদের আরেক প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একই রকম উত্তর দিলে বিরোধী দলের মধ্য থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়। একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যদি কথাই না বলতে দেন, তাহলে কিসের বাকস্বাধীনতা?’
এরপরেই সংসদে হট্টগোল শুরু হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে (এক্সপাঞ্জ) করার দাবি জানানো হয় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে। তাদের বাধায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলতে পারছিলেন না, বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন বলার পরও বিরোধীদলীয় সদস্যরা থামছিলেন না।
একপর্যায়ে বক্তব্য দিতে দাঁড়ান বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘নতুন করে এই শব্দগুলো (পল্টনের বক্তৃতা) উচ্চারণ শুরু করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। উনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) নিজেকে কী মনে করেন?’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, ‘তিনি শুরু থেকেই সংসদে দুঃশাসন দেখিয়েছেন। তিনি শুরু থেকেই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দেন। আমরা তার ছাত্র হিসেবে এখানে আসি নাই। উনি শিক্ষক হলে ইউনিভার্সিটি খুলুন, সেখানে উনি বক্তব্য দিতে পারবেন।’
‘এটা ফ্যাসিবাদের সংস্কৃতি। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি উনাকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে,’ বলেন তিনি।



































