লালদিয়া টার্মিনালের ভিত্তি স্থাপন চট্টগ্রাম হবে দেশের বাণিজ্য ও পরিবহনের হাব : অর্থমন্ত্রী


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
লালদিয়া টার্মিনালের ভিত্তি স্থাপন চট্টগ্রাম হবে দেশের বাণিজ্য ও পরিবহনের হাব : অর্থমন্ত্রী

সরকারের এক ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে চট্টগ্রামের লালদিয়ায় এপি মুলারের টার্মিনাল নির্মাণ বড় মাইলফলক বললেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, চট্টগ্রাম কেবল বাংলাদেশের নয়, বরং পুরো অঞ্চলের জন্য একটি লজিস্টিক হাব (বাণিজ্য ও পরিবহন কেন্দ্র) হয়ে ওঠে।

লালদিয়া প্রকল্প ছাড়াও আমরা বঙ্গোপসাগরের উপকূলরেখা জুড়ে আরও বেশ কয়েকটি বড় বন্দর সুবিধা, প্রকল্প এবং লজিস্টিক সেন্টার স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা করছি- যোগ করেন অর্থমন্ত্রী।

চট্টগ্রাম বন্দরে শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগে ‘এপিএম টার্মিনালস লালদিয়া’র অবকাঠামো নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতায় আমাদের সমস্ত কর্মসূচির মূল কথাই হলো—সরকার নিজে সরাসরি ব্যবসা পরিচালনা থেকে সরে আসবে এবং তা বেসরকারি খাতের হাতে তুলে দেবে অথবা তাদের সঙ্গে অংশীদারত্বে যাবে। তাই আমি আশা করি, এই প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চালু করার লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হবে বলে আশা অর্থমন্ত্রীর।

অনুষ্ঠানে এপিএম টার্মিনালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রমেশ ডেভিড বললেন, ‘পূর্ণাঙ্গ চালুর পর লালদিয়া টার্মিনালটি বছরে প্রায় ১০ লাখ (১ মিলিয়ন) টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করতে সক্ষম হবে, যা বাংলাদেশের কনটেইনার পরিবহন সক্ষমতায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি যোগ করবে।’

তিনি জানালেন, ‘এই সুবিধায় থাকবে ৬১৬ মিটার দীর্ঘ জেটি, ৭টি শিপ-টু-শোর ক্রেন, ৩২টি বৈদ্যুতিক রাবার-টায়ারড গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং ৪১টি বৈদ্যুতিক টার্মিনাল ট্রাক্টর।’

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান জানালেন, ‘টার্মিনালটি চালু হলে এটি একসঙ্গে ৬,০০০ টিইইউ পর্যন্ত ধারণক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ পরিচালনা করতে পারবে, যা বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে সরাসরি নোঙর করা জাহাজের সক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ।’

জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীর তীরে ৪৯.১৫ একর জমির ওপর টার্মিনালটি গড়ে তোলা হবে। এর নির্মাণকাজ তিন বছরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তিটির মেয়াদ হবে ৩০ বছর, যা পরবর্তী সময়ে আরও ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।
নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানালেন, ‘আজ নতুন অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে। আমাদের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আন্তর্জাতিক মানের হতে চলেছে। এপিএম টার্মিনাল লালদিয়া পিপিপি পদ্ধতিতে বড় বিনিয়োগ। অনেক ফ্যাসিলিটিজ থাকবে। নিশ্চয় এটি জাতির জন্য সুসংবাদ।’
বক্তব্য দেন এপিএম টার্মিনালস বিভির গ্লোবাল হেড অব বিজনেস ইমপ্লেমেন্টেশন জেক ক্রেইগ, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া। উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত, চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।
 

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!