জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার শেরেবাংলা নগর এলাকায় যুবদল নেতা হাফিজুর রহমান সুমন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। তবে ঘটনার সঙ্গে ‘সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায়’ জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বরিশাল-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপুসহ ৬৩ জনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের ইনভেস্টিগেশন শাখার পরিদর্শক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান খাঁন গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে এ অভিযোগপত্র দেন।
সোমবার তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তবে ৬৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় অব্যাহতির সুপারিশ করেছি।
শেখ হাসিনা ছাড়াও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক, হারুন অর রশিদ বিশ্বাস, মানাম আহমেদ রাতুল, মো. রায়হান ওরফে রাহেল, আব্দুর রহমান রাসেল, শহিদুল ইসলাম ওরফে রানা ওরফে লম্বু রানা, সোহাগ ওরফে রানা, আসাদুজ্জামান নুর ওরফে আসাদ এবং টাডি রাজুকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে।
যাদের অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, তারা হলেন– নজরুল ইসলাম, রায়হান, তারিক হাসান কাজল, কাজী কবির, মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ মকবুল চেয়ারম্যান, খন্দকার মোহাম্মদ সেলিম, ইফতেখারুল আলম হিরক, রাইসুল ইসলাম শাকিল, সাইফুল ইসলাম ওরফে রুম্মন, ফরিদুর রহমান খান ইরান, ইকরামুল কবির লাভলু, আসাদুজ্জামান দুলাল, জাবেদুর রহমান দুরান, রুম্মান বিন মাসুদ সাব্বির, মিন্টু চৌধুরী, মনোয়ার হোসেন সোহেল ওরফে লাদেন সোহেল, ফেরদৌস আলম শাহীন ওরফে কোট্টা শাহীন, রেজাউল করিম, আবুল হাসনাত দুলাল, নাবিদুর রহমান, কালী মনির ওরফে মনি সিং।
এছাড়া আবু দায়েন মীর, তাজুল ইসলাম পলাশ ওরফে পিচ্চি পলাশ, মেহেদী হাসান মনির, মাহবুবুর রহমান মাহবুব, জ্যোতি প্রকাশ বড়ুয়া, শাহজাহান, তানজিন আহমেদ, দেলোয়ার হোসেন চুন্নু, অলি-উল্লাহ অলি, শাহজাহান মজুমদার, এসএম অলি উল্লাহ ওলি, আবুল, ফোরকান হোসেন, আসাদুজ্জামান আসাদ, সজিব, আবু সাদেক, সাব্বির আহমেদ লিটু, ফজলুল আহমেদ অপু, বাপ্পি, হাসিনুর রহমান, আসিফ হাসান, সিজার, সৈয়দ জিয়াউল আহসান, আবুল হোসেন, রুহুল আমিন, কাইয়ুম, আব্দুর রাজ্জাক, মাহে আলম, আব্দুল কুদ্দুস ওরফে নাডা কুদ্দুস, টুটুল, বি কে পাইক বাবু, এমএস কিবরিয়া মজুমদার, পাপ্পু, কালু বাবু, শাহ আলম, দেলোয়ার হোসেন সোহাগ ওরফে শ্যুটার সোহাগ, নাসির উদ্দিন সাগর, সাদ্দাম, সালামকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
আগামী ৮ মার্চ এ মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য রয়েছে বলে প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের শেষ দিন, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট দুপুর ১টার দিকে শেরেবাংলা নগর মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন ২৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান সুমন। দুপুর দুইটা থেকে আড়াইটার দিকে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। তাতে গুরুতর আহন হন সুমন।
আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ অগাস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুমন মারা যান।
এ ঘটনায় তার স্ত্রী মোসাম্মৎ বিথী খাতুন ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর শেরেবাংলা নগর থানায় শেখ হাসিনাসহ ৬৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২০/৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।






























