তনু হত্যা : জামিনে মুক্ত সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২৬, ১১:১৯ পিএম
তনু হত্যা : জামিনে মুক্ত সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর

বহুল আলোচিত কুমিল্লার কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
রাতে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান। তিনি জানান, হাইকোর্টের জামিনের আদেশ পাওয়ার পর সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে হাফিজুর রহমানকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত রবিবার বিচারপতি জাকির আহমেদ ও বিচারপতি সাথীকা হোসাইনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে হাফিজুর রহমানের জামিন মঞ্জুর করেন।

দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসভবন থেকে তনু হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরদিন তাকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পিবিআই। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই সময় তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাও সম্পন্ন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়।

এদিকে মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি হিসেবে তনুর পোশাক থেকে পাওয়া আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে আরও দুই সন্দেহভাজনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

পিবিআই ও আদালত সূত্র জানায়, তনুর পোশাক থেকে সংগৃহীত আলামতের ডিএনএ বিশ্লেষণে একাধিক পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। সেই প্রোফাইলের সঙ্গে তুলনা করতে দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষা প্রয়োজন বলে আদালতে আবেদন করে পিবিআই।

গত ১৬ জুলাই কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি পাওয়া দুই ব্যক্তি হলেন কুমিল্লা সেনানিবাসের সাবেক সৈনিক মো. জাহিদুল ইসলাম (৪১), যার বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের মেঘাই গ্রামে এবং ফয়সাল আহমেদ ওরফে রাব্বী (৩২), যার বাড়ি কুমিল্লার সদর দক্ষিণের লক্ষ্মীনগর (রাজাপাড়া) এলাকায়। তদন্তের স্বার্থে দ্বিতীয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্দেহের নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি পিবিআই।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাসের পাশে জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম।

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!