দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইয়াংসানে গতকাল বিকালে তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় বলে জানিয়েছে কোরিয়া মেটিওরোলজিক্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (কেএমএ) । ১৯০৪ সালে আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর এটিই দেশটির সর্বোচ্চ নথিবদ্ধ তাপমাত্রা
এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে আবহাওয়ার তথ্য নথিবদ্ধ করছে দক্ষিণ কোরিয়া। এ সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হয়েছে গতকাল। তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে দেশটির কর্তৃপক্ষ আক্রান্ত এলাকার মানুষকে ‘অবিলম্বে সব ধরনের বাইরের কার্যক্রম বন্ধ করার’ নির্দেশ দিয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইয়াংসানে গতকাল বিকালে তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় বলে জানিয়েছে কোরিয়া মেটিওরোলজিক্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (কেএমএ) । ১৯০৪ সালে আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর এটিই দেশটির সর্বোচ্চ নথিবদ্ধ তাপমাত্রা।
চলমান তাপপ্রবাহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ইয়াংসান। সেখানে টানা পঞ্চম দিনের মতো তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল। একই সময়ে ডেগু ও বুসানসহ অনেক শহরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছেছে।
প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে মানুষ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত শপিং মল ও ক্যাফেতে আশ্রয় নিচ্ছেন। সিউলের স্টারবাকস আউটলেটে বাবা-মায়ের সঙ্গে আশ্রয় নেয়া ২৭ বছর বয়সী জু ডং-ইওল বলেন, ‘এতটাই গরম যে বাইরে কোনো কিছু করার মতো পরিস্থিতিই নেই।’
তিনি বলেন, ‘বাড়ি, শপিং মল বা ক্যাফের মতো শীতাতপনিয়ন্ত্রিত জায়গায় থাকা ছাড়া আর কিছু করার কথা মাথায় আসছে না।’
গতকাল দেশটির ২০টিরও বেশি এলাকায় জরুরি তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করা হয়। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা মোকাবেলায় চলতি বছর এই নতুন সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। কোনো এলাকায় অনুভূত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা প্রকৃত তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হওয়ার পূর্বাভাস থাকলে এ জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়।
এদিকে দক্ষিণ গিয়ংসাং প্রদেশের মিরিয়াং এলাকায় কৃষিশ্রমিকদের প্রচণ্ড রোদ থেকে রক্ষা করতে ছাতার নিচে স্ট্রবেরি সংগ্রহ করতে দেখা গেছে।
তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করে আবহাওয়া সংস্থা বলেছে, ‘অবিলম্বে সব ধরনের বাইরের কার্যক্রম বন্ধ করুন।’ তারা আরো সতর্ক করে জানায়, ‘শীতাতপনিয়ন্ত্রণবিহীন ঘরের ভেতরেও থাকা বিপজ্জনক।’
সংস্থাটি পরামর্শ দিয়েছে, ‘অবিলম্বে নির্ধারিত শীতলীকরণ কেন্দ্র বা ছায়াযুক্ত কোনো শীতল স্থানে চলে যান। পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং বিশ্রাম নিন।’
কেএমএর তথ্যানুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দক্ষিণ কোরিয়ায় বছরে গড়ে তাপপ্রবাহের দিনের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ১৯ দিনে পৌঁছেছে।
দেশটিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে সেটিকে একটি তাপপ্রবাহের দিন হিসেবে গণ্য করা হয়।
প্রচণ্ড গরমের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার পেশাদার বেসবল লিগ ‘চ্যাংওন’-এ একটি ম্যাচ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। শহরটির তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠায় টানা দ্বিতীয় ম্যাচ বাতিল করা হলো।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরো ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে।
এ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে চলতি বছর এল নিনোর প্রত্যাবর্তন। এটি একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা, এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের পানির তাপমাত্রা বেড়ে যায়। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর এ ঘটনা ঘটে।
























