আতঙ্কে হল ছাড়ছেন ঢাকা আলিয়ার শিক্ষার্থীরা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২৬, ১১:১৭ পিএম
আতঙ্কে হল ছাড়ছেন ঢাকা আলিয়ার শিক্ষার্থীরা

রাজধানীর চকবাজার থানাধীন সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে ক্যাম্পাসে। আগামীকাল ফাইনাল পরীক্ষা থাকলেও অনেককেই জানালা দিয়ে নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বের হতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উত্তেজনা ঘিরে ক্যাম্পাস এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। থমথমে পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে হলগুলোর গেটও বন্ধ রাখা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে ভেতরে ঢুকতে বা বাইরে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। এ সময় দেখা গেছে অনেক শিক্ষার্থী জানালা দিয়ে নিজেদের জিনিসপত্র বের করে নিয়ে হল ছাড়ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছু এক শিক্ষার্থী আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘আমি পরীক্ষা দিয়ে মাত্র আসলাম। পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রুমমেট ফোন দিয়ে বলল হলের সব কিছু নিয়ে বের হয়ে যেতে। তাই আমি চলে যাচ্ছি। এখন একজন আত্মীয়ের বাসায় যাচ্ছি।’

সন্ধ্যায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর সংবাদিকদের ঢাকা দক্ষিণের ছাত্রদল নেতা নিয়াজ হোসেন বলেছেন, ছাত্রদল ট্যাগ  দেবেন, ছাত্রদল করলেই তাকে মারবেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সমকামিতাও করবেন- এসব তো চলবে না। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদে ক্যাম্পাসে থাকতে পারে। সহজেই ছাত্রদল ট্যাগ দিয়ে যেন মারামারি না হয়, এই আশাই ব্যক্ত রাখি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ মহিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘বর্তমানে দুই পক্ষই শান্ত আছে। যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মহিদুল।’

আজ মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে শিবির-ছাত্রদলে মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত থেমে থেমে কয়েক দফায় চলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। এতে ছাত্রদলের দুই নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা শাখা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সানাউল্লাহ (৩০) এবং লালবাগ থানা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিছার উদ্দিন রাব্বি (২৭)। বর্তমানে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, বিকালে সানাউল্লাহ ও রাব্বি মাদ্রাসা ক্যাম্পাসের ভেতরে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় ৩০ থেকে ৪০ জন শিবির নেতাকর্মী রড, লাঠি ও ইটপাটকেল নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে দুজনেই রক্তাক্ত জখম হন। পরে ক্যাম্পাসের অন্য শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ধার করে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!