চট্টগ্রামের আলোচিত জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী।
সোমবার দুপুরে সেনাবাহিনীর ২৬ ইঞ্জিনিয়ারিং কনন্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল আল মাসুদ এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি বলেন, “রাস্তাটি আলীনগর স্কুল থেকে ভাটিয়ারী-হাটহাজারী লিংক রোডের তিন নম্বর বাজার সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে সংযুক্ত হবে। এখানে আলীনগর স্কুল থেকে চারটা রোড চারদিকে বিস্তৃত আছে। এই সড়কগুলো নির্মাণ হয়ে গেলে বায়েজিদ লিংক রোড থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে এবং ভাটিয়ারী-হাটহাজারী লিংক রোড থেকে এই তিনদিক থেকেই খুব সহজেই মানুষ চলাচল করতে পারবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য এটা অত্যন্ত সুগম হবে।
“তারা তাদের দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালন করতে পারবে। কিছুটা মহাসড়ক থেকে বাইপাস করে বায়েজিদ লিংক রোডে আসার একটু সুযোগ তৈরি হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য, এই এলাকার জনগণের জীবনযাত্রার মান যেন উন্নয়ন হয়। তারা যেন এই রাস্তার উপকারটা ভোগ করতে পারে।”
সড়কের প্রস্থ ১৮ ফুট হবে জানিয়ে কামরুল আল মাসুদ বলেন, “নির্মাণের সময়টা এখনো পরিকল্পনার মধ্যে আছে। সব প্রাক্কলন ও প্রকল্প অনুমোদন হলে আরো নিশ্চিত করে বলতে পারব। সম্পূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ৬-৭ মাস লাগবে।
“এটা এলজিইডির মাধ্যমে হচ্ছে। ডিপিএম (ডেলিকেট প্রকিউরমেন্ট মেথড) সেনাবাহিনীকে অর্পিত করা হবে। অর্থায়ন এলজিইডির মাধ্যমে হলেও সেনাবাহিনী এই প্রকল্পটি সম্পন্ন করবে।”
এর আগে গত ৩১ মে জঙ্গল ছলিমপুরে পরিদর্শনে এসে সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থার কীভাবে উন্নয়ন করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা করার কথা বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড কর্তৃক জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এই এলাকার জনগণের সুবিধার্থে এখানকার রাস্তা নির্মাণের বিস্তারিত পরিকল্পনা এবং প্রাক্কলনের কাজ এলজিইডি কর্তৃক চলমান রয়েছে।
“তবে দেশের স্বার্থে এবং জঙ্গল ছলিমপুরের সাধারণ জনগণের স্বার্থে সেনাবাহিনীর মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতে আমরা কাজটি অতি দ্রুততার সঙ্গে শুরু করেছি। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, আমাদের তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা হচ্ছে, এই এলাকার যে দুর্বল পাহাড়গুলো আছে সেগুলোকে সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী করে তোলা। অতি দ্রুততার সঙ্গে আমরা এটা করব ইনশাল্লাহ।”
জঙ্গল ছলিমপুর এলাকাটি যেহেতু পাহাড়ি তাই ১০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনার পাশাপাশি সেখানে বেশকিছু কালভার্ট এবং নূন্যতম তিনটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও বলেন এ সেনা কর্মকর্তা।
এছাড়া এখানকাটিতে ভূমি ধস এবং অন্যান্য বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে এসে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং রিটেইনিং স্ট্রাকচারও এই রাস্তার সঙ্গে সংযোজন করা হবে তথ্য দেন তিনি।
কামরুল আল মাসুদ বলেন, “এই এলাকার পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের নিজস্ব সিকউরিটি ক্লোজ প্রোটেকশন আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। আমরা শতভাগ নিশ্চিত করে কাজ করছি। প্রতিনিয়ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বিজিবি সবার সহায়তায় আমরা এই কাজটি চলমান রেখেছি।”
চট্টগ্রামের সন্ত্রাসীদের 'দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্য' তকমা পাওয়া জঙ্গল ছলিমপুর বেশ কিছুদিন ধরেই নানাভাবে আলোচিত। গত ১৯ জানুয়ারি র্যাবের একটি দল কয়েকটি মাইক্রোবাসে করে সেখানে অভিযানে যায়। সেখানে ‘মাইকে ঘোষণা’ দিয়ে র্যাব সদস্যদের ঘিরে তিনজনকে আটকে ফেলে স্থানীয়রা। তাদের পিটুনিতে নিহত হন র্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া।
এরপর গত ৯ মার্চ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৩১৮৩ জন সদস্যকে নিয়ে সেখানে অভিযানে যায় স্থানীয় প্রশাসন। অভিযানে সন্ত্রাসীদের অনেককে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের কথা বলেছিল পুলিশ। সে সময় জঙ্গল ছলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘পূর্ণ অধিকার ও আধিপত্য’ প্রতিষ্ঠা করেছে বলেও দাবি করেছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ।
তবে সবশেষ ২৪ মে গভীর রাতে জঙ্গল ছলিমপুরের মূল সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে আবার ত্রিমুখী হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি চালানোর পাশাপাশি নির্মাণাধীণ একটি ক্যাম্প তারা ভেঙে দেয় সেদিন।
এর পরই ৩১ মে জঙ্গল ছলিমপুরে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, সেনাবাহিনীর কী কী সুযোগ সুবিধা করা যায় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার কীভাবে উন্নয়ন করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা করার কথা বলেন।








![২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত সূচি [বাংলাদেশী সময় অনুযায়ী]](https://www.songbadprokash.com/media/imgAll//SM/২২২২২২২-20260603084825.jpg)





