গেটলকে বদলে গেল টার্মিনালের চিত্র


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ১৫, ২০২৪, ০৮:৫৭ পিএম
গেটলকে বদলে গেল টার্মিনালের চিত্র
মহাখালী বাস টার্মিনাল। ছবি : সংবাদ প্রকাশ

রাজধানীতে গেটলক বাস সার্ভিস চালু হওয়ার পর বদলে গেছে বাস টার্মিনালগুলোর আগের চিত্র। একইসঙ্গে ভোগান্তিও কমেছে যাত্রীদের। যদিও কিছুসংখ্যক বাস নিয়ম অমান্য করে চলাচলের চেষ্টা করছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিয়ম ভঙ্গকারীদের দ্রুততার সঙ্গে শাস্তির আওতায় এনে সতর্ক করা হচ্ছে।

গত দুইদিনে মহাখালী বাস টার্মিনালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। আগের চেয়ে যাত্রী সমাগম বেড়েছে। দূরপাল্লার বাসগুলোকে দেখা গেছে যাত্রী সংখ্যার হিসাব কাগজে লিখে শ্রমিক ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্তদের হাতে দিতে। এরপর তারা বাসের দরজা বন্ধ করে রওনা দিচ্ছেন বনানীর দিকে।

গন্তব্যের দিকে চলা বাসগুলোর পিছু নিয়ে দেখা গেছে, আগের মতো তারা আর যত্রতত্র যাত্রী তুলছেন না। পথিমধ্যে কোনো কোনো যাত্রী বাসে উঠার চেষ্টা করলে চালকের সহকারীরা তাদের পরের স্টপেজে এগিয়ে আসতে বলেন।

মহাখালী টার্মিনাল থেকে ছেড়ে আসা বাস। ছবি : সংবাদ প্রকাশ

পরে বাসগুলো বনানীতে পৌঁছলে দায়িত্বরত নেতারা মহাখালী থেকে আসা যাত্রীদের গুনে গুনে কাগজে লেখা সংখ্যার সঙ্গে মিলাচ্ছেন। যাত্রী বেশি পেলেই চালক ও সহকারীদের শাস্তির আওতায় আনছেন।

কঠোর এ ব্যবস্থার ফলে মহাখালী টার্মিনাল এলাকায় আগের চেয়ে যানজট কমেছে। যেটুকু যানজট দেখা গেছে তা মহানগরীর ভেতরের বাসগুলোর জন্য।

ঢাকা জিলা বাস মিনিবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা গেছে, দূর পাল্লার বাসের গেটলক পদ্ধতির উদ্বোধন করার পর থেকে মঙ্গলবার (১৪ মে) দুপুর দেড়টা পর্যন্ত নিয়ম ভঙ্গকারী ২৩টি বাসকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। এতে নিয়ম ভঙ্গের দিনসহ পরদিন কোনো প্রকার যাত্রীসেবা দিতে পারবে না বাসগুলো।

সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গত ১২ মে দূর পাল্লার বাসের গেটলক পদ্ধতির উদ্বোধন করা হয়। এতে নির্ধারিত স্থান ছাড়া যাত্রী তোলায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলো চেকিং হবে চার জায়গায়। প্রথমে বনানি, তারপর কুর্মিটোলা, খিলক্ষেত এবং সবশেষ আব্দুল্লাহপুরে।

গেটলক সার্ভিস চালু হওয়ায় সবচেয়ে বেশি খুশি যাত্রীরা। ময়মনসিংহগামী আসিফ নামের এক যাত্রী বলেন, “এই নিয়ম চালু হওয়ায় বাড়ি পৌঁছাতে সময় কম লাগবে। আগে এসব বাসের জন্য যানজট লেগে থাকতো। এখন যানজট কিছুটা হলেও কমেছে। ভোগান্তিও কমেছে অনেকটা।”

রমিজউদ্দিন নামের আরেক যাত্রী কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাসে উঠলাম। বলল তো গেটলক। কিন্তু তারা গেটলক বললেও যাত্রী মাঝে মাঝে তোলে। বনানী পর্যন্ত যাই। তারপরে দেখি কী হয়?”

পলাশ নামের এক যাত্রী বলেন, “গেটলক সার্ভিস চালু হওয়ার পর প্রথম উঠলাম। আগে তো সময় লাগতো বেশি। এখন আগে যাই, তারপরে বলতে পারবো, কত সময় লাগছে। তবে মহাখালী থেকে বনানী পর্যন্ত তারা কোনো যাত্রী তোলে নি।”

মহাখালী বাস টার্মিনাল। ছবি : সংবাদ প্রকাশ

মনি-মুক্তা নামের বাসটি যাত্রীসেবা দেয় ঢাকা থেকে শেরপুর পর্যন্ত। মঙ্গলবার বাসটিকে শাস্তির আওতায় আনে শ্রমিক ইউনিয়নের সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে বাসটির হেলপার দাবি করে বলেন, “আমরা রাস্তায় যাত্রী তুলি না। মহাখালী থেকে হিসাব করে যাত্রী দিয়েছে। কীভাবে এলোমেলো হলো জানি না।”

ময়মনসিংহগামী হজরত শাহজালাল নামের এক বাসের চালক মোহাম্মদ আলী বলেন, “গেটলক সার্ভিস আমাদের জন্য ভালো। এতে যাত্রী পাওয়া যায়। নয়তো কুড়িয়ে কুড়িয়ে যাত্রী পেতে হতো।”

সোনার বাংলা নামের আরেকটি বাসের টিকিট কাউন্টার মাস্টার নূর মোহাম্মদ বলেন, “আগে যাত্রী বেশি আসতো টার্মিনালে। এখন মহাখালী রেলগেটের যাত্রীরা এখানে এসে বাসে উঠছে। এতে যাত্রী বাড়ছে। রেলগেট বা রাস্তায় উঠা যাত্রীরা কম ভাড়া দিতে চাইতো। এখন তা হচ্ছে না। তারা টিকিট কেটে উঠছে। গেটলক সার্ভিস চালু হওয়ার পর যাত্রীর সঙ্গে সঙ্গে আয়ও বাড়ছে।”

শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য মাসুদ বলেন, “বনানীতে গাড়ি চেক করে পরের চেকপোস্টের জন্য ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। সার্ভিস চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ২৩টি বাসের চালক ও হেলপারদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণ আগে মনি-মুক্তা বাস নিয়ম ভঙ্গ করায় শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। শাস্তি হিসেবে তারা আজকে এবং আগামীকাল বাসে যাত্রী নিয়ে যেতে পারবে না।”

ঢাকা জিলা বাস মিনি বাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল উদ্দিন বলেন, “কিছু কিছু বাস নিয়ম ভঙ্গ করছে। তাদের জন্য শাস্তির আওতায় নেয়া হচ্ছে। দীর্ঘ দিনের অভ্যাস, এটা পরিবর্তন হতে সময় লাগবে। দুই চারদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।”

Link copied!