ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানের দেখা দিয়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নতুন ৫০৯ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুইজন মারা গেছেন।
রোববার (২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২২৪ জন, আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮৫ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৩৮৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। ঢাকার ৫৩টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ৯৬৬ জন এবং অন্যান্য বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪২২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।
চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৭৫৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৬ হাজার ৪৮১ জন এবং ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ হাজার ২৭৬ জন।
আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭ হাজার ৩১৭ জন। ঢাকায় ৫ হাজার ৪৭৪ এবং ঢাকার বাইরে ১ হাজার ৮৪৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
এ বছর ডেঙ্গুর ধরন (ভেরিয়েন্ট) ডেন-২-এ বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। সম্প্রতি সীমিতসংখ্যক নমুনা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ রোগী ডেঙ্গুর ধরন ডেন-২-এ আক্রান্ত হয়েছেন। বাকি ৩৮ শতাংশ আক্রান্ত হয়েছেন অন্য ধরন ডেন-৩-এ। আইইডিসিআর ডেঙ্গুর ধরন সম্পর্কে এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে এ বছর ডেঙ্গু আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে জানিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এজন্য চিকিৎসা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার কথাও বলছেন তারা। পাশাপাশি মৃত্যুহার কমাতে সচেতনতার বিকল্প নেই বলেও জানান তারা।
গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা সর্বমোট ৬২ হাজার ৩৮২ জন এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ২৮১ জন মারা যান। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে।






























