সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “১২ বছর ও এর বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনা হবে।”
বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নে জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।
টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সব শিক্ষার্থীকে কোভিড-১৯ টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যে বয়সসীমা ১৮ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৫০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় নিয়ে আসতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১২ বছর ও তদূর্ধ্ব সব ছাত্রছাত্রীদের টিকার আওতায় নিয়ে আসা, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সুবর্ণ কার্ডের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশনপূর্বক টিকা প্রদান, সারা দেশের শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা প্রদান করা।”
সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “প্রতি মাসে যাতে এক কোটি ডোজের বেশি টিকা পাওয়ার যায় তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, টিকা কার্যক্রম জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ব্যবস্থা হয়েছে। ইতোমধ্যে সব বিভাগীয় সদর, জেলা সদর ও উপজেলা সদরে অবস্থিত ৬৭৩টি টিকাকেন্দ্রের মাধ্যমে জনগণকে টিকা দেওয়া হচ্ছে।”
টিকাকেন্দ্র বিস্তৃত করা হয়েছে ইউনিয়ন পর্যায়ে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “টিকা প্রদানে প্রয়োজনীয় জনবলকে ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আশা করি পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকা প্রদান সম্ভব হবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “চীনের সিনোফার্ম হতে দেওয়া শিডিউল অনুযায়ী অক্টোবর থেকে প্রতি মাসে ২ কোটি করে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৬ কোটি টিকা পাওয়া যাবে।”
আমরা টিকা সংগ্রহ ও টিকা প্রদানের সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা ও সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার দেশের সব মানুষকে টিকার আওতায় আনতে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ভ্যাকসিনেশন প্ল্যান (এনডিভিপি) প্রস্তুত করেছে, যা কোভ্যাক্স অনুমোদিত।”
শেখ হাসিনা বলেন, “ক্রমান্বয়ে দেশের ৮০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা হয়েছে। বর্তমানে জনসাধারণের জন্য টিকা গ্রহণের বয়সসীমা ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশে ২৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীকে কোভিড-১৯ টিকা দেওয়া হচ্ছে।”
১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৪ কোটি ৬৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৬০ ডোজ টিকা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর মধ্যে ক্রয় চুক্তি ও উপহার হিসেবে ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ ডোজ টিকা পাওয়া গেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। আর দেশে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টিকা মজুত রয়েছে ৯৬ লাখ ৫৪ হাজার ১১৯ ডোজ।
সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।






























