ভারতের কাছে কনস্যুলার অ্যাকসেস চেয়েছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ৯, ২০২৬, ১১:১০ পিএম
ভারতের কাছে কনস্যুলার অ্যাকসেস চেয়েছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম ওরফে মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনের বিষয়ে ভারতের কাছে কনস্যুলার সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। গত শনিবার রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় পুলিশ।

সোমবার  পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, গত শনিবার রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের বিষয়ে ভারতের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশের কলকাতা মিশন থেকে রোববারই (৮ মার্চ) ভারতের কাছে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চাওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা করছে, দ্রুতই এ সুবিধা পাওয়া যাবে এবং এরপর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তাদের বিচারের ব্যাপারে সরকার আন্তরিক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন এবং এ লক্ষ্যে গণসংযোগ চালাচ্ছিলেন। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে। হামলাকারীরা মাথায় গুলি করে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর সেখানে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম গুলি করে ওসমান হাদিকে হত্যা করেন এবং এতে সহায়তা করেন আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী আলমগীর হোসেন। তাদের নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে তদন্তে উঠে আসে। ঘটনার পর তিনজনই ভারতে পালিয়ে যান।

(৮ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ফয়সাল করিম (৩৭) ও আলমগীর হোসেনকে (৩৪) বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানানো হয়।

গ্রেপ্তারের পর এখন তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক চ্যানেলে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির।
 

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!