কমিটি নিয়ে নগর আ. লীগের তৃণমূলে হতাশা বাড়ছে


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩, ২০২৩, ১০:০২ পিএম
কমিটি নিয়ে নগর আ. লীগের তৃণমূলে হতাশা বাড়ছে

দীর্ঘ ১৮ বছর পর ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের মাধ্যমে ওয়ার্ড-থানাকে উজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। একইসঙ্গে দক্ষিণের অর্ন্তগত সব কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। তবে সম্মেলনের প্রায় চার মাস অতিবাহিত হলেও থানা-ওয়ার্ডে কোনো কমিটি দিতে পারেনি দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এতে দিনকে দিন তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

জানা গেছে, রাজধানীর ডেমরা-যাত্রাবাড়িসহ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের থানা-ওয়ার্ড সম্মেলন করেছেন দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এতে অনেকটাই উজ্জীবিত হয়ে ওঠে তৃণমূল নেতাকর্মীরা। কিন্তু সম্মেলনের চার মাস অতিবাহিত হলেও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ কোনো কমিটি দিতে পারেনি। এ নিয়ে থানা-ওয়ার্ড পর্যায়ে পদ প্রত্যাশীরা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যার যার মতো যোগাযোগসহ প্রয়োজনীয় কর্মযজ্ঞ শেষ করলেও কোনো ফলাফল না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশায় ভোগছেন দলটির পদপ্রত্যাশীরা। তবে কারা আসছেন ডেমরা থানা অন্তর্গত ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এ নিয়ে প্রশ্ন ঘোরপাক খাচ্ছে তৃণমূল আওয়ামী লীগে।

জানা গেছে, সম্মেলনের দিন ডেমরা থানার সভাপতি হিসেবে সিভি জমা দিয়েছেন আটজন, আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দিয়েছেন ১১জন। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম মাসুদ ও সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজল। আর যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নিজেদের সিভি জমা না দিয়ে এই থানার আওতাধীন বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক ও কাউন্সিলরদের স্বাক্ষর নিয়ে আবারো সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক থাকতে চেয়েছেন কাজী মনিরুল ইসলাম মনু সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশীদ মুন্না। এ নিয়ে সম্মেলনের দিন ব্যাপক হট্টগোল সৃষ্টি হলে তাদের মনোবাসনা ভেস্তে যায়। পরে থানার সভাপতি হিসেবে মোট সিভি জমা দিয়েছেন ১৩ জন আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সিভি জমা দিয়েছেন ২৭ জন। তাদের মধ্যে সভাপতি হিসেবে এগিয়ে আছেন হারুনর রশীদ মুন্না, আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন বৃহত্তর ডেমরা থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কৌশিক আহমেদ জসিম ও মাতুয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শান্তনূর খান শান্ত।

ওয়ার্ডে আলোচনায় যারা

৪৮ নং ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন গিয়াসউদ্দিন গেসু ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন কাউন্সিলর আবুল কালাম অনু। এই ওয়ার্ডে সভাপতি হিসেবে সিভি জমা দিয়েছেন শরিফ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সিভি জমা দিয়েছেন জাহিদুল কবীর রাজু। ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে সিভি জমা দিয়েছেন আবুল কালাম আজাদ। তিনি এই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। একই ওয়ার্ডে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসাবে আলোচনায় আছেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম নিপু। ৬২ নম্বর ওয়ার্ডে সভাপতি হিসেবে সিভি জমা দিয়েছেন মোকতার হোসেন, কাউন্সিলর মোস্তাক হোসেনসহ আরও কয়েকজন।

৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে সভাপতি হিসেবে সিভি জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের কাণ্ডারী হিসেবে পরিচিত আবদুল হামিদসহ অন্তত ছয়জন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সিভি জমা দিয়েছেন সাইফুল মৃর্ধা ও আবু নাঈমসহ আরো কয়েকজন। ৬৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি প্রার্থী হিসেবে সিভি জমা দিয়েছেন ১৩ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে আলোচনায় আছেন প্রয়াত চার বারের এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার ছোট ভাই ও ৬৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাসুদুর রহমান মোল্লা বাবুল। একইসঙ্গে সভাপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন আব্দুল আলীম খান, মুক্তিযোদ্ধা মো. বজলুর রহমান ও মুক্তিযোদ্ধা ডা. মো. আব্দুল খালেক বিএ। আর সাধারণ সম্পাদক পদে সিভি জমা দিয়েছেন ১৩ জন। এদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও বিএনপি-জামায়াতের সময় কারানির্যাতিত নেতা সোহেল খান।

৬৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে সবচেয়ে আলোচনায় আছেন নীরু আমিন নরুল এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামসুদ্দিন আহমেদ সেন্টু। আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় আছেন সাবেক ছাত্রনেতা এনামুল ইসলাম এনাম, তোফায়েল আহমেদ মিন্টু, হারুনর রশীদ। ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে সভাপতি পদে সিভি জমা দিয়েছেন ১০ জন। এদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন প্রবীণ আওয়ামী লীগের নেতা মো. শাহাবুদ্দিন খান ও মো. হানিফ তালুকদার, মোবারক সাউদ। সাধারণ সম্পাদক পদে সিভি জমা দিয়েছেন ২০ জন। এদের মধ্যে আলোচিতরা হচ্ছেন জাফর আহম্মেদ বাবু, ছাত্রনেতা মিজানুর রহমান মিজান। ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডে সভপতি পদে আবেদন করেছেন পাঁচজন প্রার্থী।

এদের মধ্যে সর্বাধিক আলোচনায় আছেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী। একই সঙ্গে অছেন আব্দুল আজীজ প্রধান, জয়নাল আবেদীন হাজারী। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী রয়েছেন ১৪ জন। এদের মধ্যে আলোচনায় আছেন সারুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হোসেন, মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম খসরু। ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডে সভাপতি প্রার্থী পাঁচজন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ৯ জন। ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডে সভাপতি প্রার্থী ছয়জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ১২ জন। ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে সভাপতি প্রার্থী সাতজন ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ১৪ জন। একইভাবে দক্ষিণের প্রতিটি থানা ও য়ার্ডের নেতা-কর্মীরা সিভি জমা দিলেও কমিটি দেওয়ার কোনো খবর পাচ্ছেন না তারা। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের ত্যাক্ত-বিরক্তে ইতোমধ্যে অনেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পরতে শুরু করেছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী বলেন, তৃণমূলে হতাশার কোনো কারণ নেই। দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুতই ডিএসসিসির ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও থানা পর্যায়ে কমিটি ঘোষণা করা হবে। একইসুরে কথা বলেছেন সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির।

Link copied!