বিএনপি-জামায়াত নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুব মহিলা লীগের সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যুব মহিলা লীগ বিএনপি ও জামায়াতের তাণ্ডবের প্রতিবাদে রাজপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিএনপি ও জামায়াত ক্ষমতায় থেকে হাজার হাজার মা-বোনের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে। অনেককে আমরা চিকিৎসা দিয়েছি। তাদের আমল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না।”
শেখ হাসিনা আরও বলেন, “বিএনপির আমলে দেশজুড়ে লুটপাট, নৈরাজ্য হয়েছিল। মানি লন্ডারিং করা হয়েছে। এ দেশের মানুষ কখনো তা ভুলে যায়নি। ওই সময় যুব মহিলা লীগের নেতা-কর্মীরা রাজপথে প্রতিবাদ করতে গিয়ে নানাভাবে নির্যাতিত ও হামলা-মামলার শিকার হয়েছিল।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতির পিতার ‘আমার দেখা নয়া চীন’ পড়লে যুব মহিলা লীগের সদস্যরা তাদের করণীয় বুঝতে পারবে।”
সরকারপ্রধান বলেন, “জাতির পিতা যে স্বপ্ন নিয়ে এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে চেষ্টা করেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। তার আগেই ৭৫ সালের ঘাতকরা আমার মা, ভাইসহ পরিবারের সব সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। ওই হত্যাকাণ্ডে আমরা বাবা, মাসহ সবাইকে হারিয়েছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হারিয়ে আমাদের চেয়ে তো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বাংলাদেশ ও দেশের মানুষ। সেদিন দেশের উন্নয়নকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা অর্থনৈতিকভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছি। যদিও বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা আমাদের ওপর এসে পড়েছে। তারপরও আমাদের সর্বাঙ্গীন প্রচেষ্টা হচ্ছে, কোনোমতেই যেন এই ধাক্কায় আমার দেশের মানুষ কষ্ট না পায়। তার জন্য কিন্তু আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছি, চেষ্টা করে যাচ্ছি।”
সরকারপ্রধান বলেন, “এখানে একটা কথা না বলে পারছি না। আমাদের অত্যন্ত দুর্ভাগ্য, কোনো কোনো মহল হঠাৎ হঠাৎ নানা ধরনের গুজব ছড়ায়। দেশে গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।”
শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা আগামী ৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব। আর সেই বাংলাদেশ হবে স্মার্ট বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে আমরা চলে যাব। স্মার্ট বাংলাদেশে প্রযুক্তির মাধ্যমে সবকিছু হবে। সেখানে নাগরিকরা প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হবে। এর মাধ্যমে সমগ্র অর্থনীতি পরিচালিত হবে। সরকার ও সমাজকে স্মার্ট করে গড়ে তুলতে ইতিমধ্যেই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পাদিত হয়েছে।”
দেশের উন্নয়নের একের পর এক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২১০০ সালের ডেলটা প্ল্যান এবং ২০২১ থেকে ২০৪১ সালের পরিকল্পনাও প্রণয়ন করে দিয়ে গেলাম। এখন সব নির্ভর করছে আমাদের তরুণ প্রজন্ম ও যুব সমাজের ওপর।”































