আ.লীগ নেতা-কর্মীদের দেশে এসে মামলার বিচার ও সাজা মোকাবিলা করা উচিত: সেতুমন্ত্রী


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: নভেম্বর ৯, ২০২৬, ১২:০১ এএম
আ.লীগ নেতা-কর্মীদের দেশে এসে মামলার বিচার ও সাজা মোকাবিলা করা উচিত: সেতুমন্ত্রী

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক ও পরোয়ানাভুক্ত নেতাকর্মীদের দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হয়ে বিচার ও সাজা মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, অভিযোগের বিচার আইনের মাধ্যমে হচ্ছে এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।

রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বেতকা ইউনিয়নের তালতলা-ডহুরী খালের ওপর কুন্ডেরবাজার সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি দেশব্যাপী পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে যোগ দেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘যাঁরা পালিয়ে গিয়েছেন, পলাতক আসামি, পরোয়ানাভুক্ত আসামি, তাঁরা দেশে আসুন। সেটা তো আইন চায়। তাঁদের যে সাজা আছে, সেই সাজার দিক থেকেও আমরা চাই, তাঁরা দেশে এসে মোকাবিলা করুন।’

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকারের নানা অপকর্ম, দুর্নীতি, গণহত্যা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা এখন বিচারের সম্মুখীন। ইতিমধ্যে অনেক মামলার রায় হয়েছে। কিছু অভিযোগের বিচার এখনো আদালতে বিচারাধীন।

মন্ত্রী বলেন, ‘তাঁরা আইনের ঊর্ধ্বে নন। তিনি যদি দেশে আসতে চান, তাঁকে দেশে আসতে না করেছে কে? তাঁর তো দেশে থাকাই উচিত ছিল এবং দেশে থেকে বিচার মোকাবিলা করতে পারতেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যে রায় রয়েছে, তা কার্যকর করবে সরকার ও বিচার বিভাগ।’

মুন্সিগঞ্জের উন্নয়ন প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সব উন্নয়ন প্রকল্প পর্যায়ক্রমে ও যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই ধানের শীষের প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ায় মুন্সিগঞ্জের মানুষের প্রতি সরকারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। জেলার উন্নয়ন, অবকাঠামো ও যেকোনো যৌক্তিক চাহিদা বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক ও অঙ্গীকারবদ্ধ।

সরকার দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়টি নতুনভাবে সাজাতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ের সড়ক ১৮ ফুট এবং জেলা পর্যায়ের সড়ক ৩৪ ফুট প্রশস্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক ও জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। জাতীয় মহাসড়কগুলোতে সার্ভিস লেনসহ চার লেন করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, মুন্সিগঞ্জের যেসব প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি রাখে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য স্থানীয় জনগণকে বারবার দাবি জানাতে হবে না। এটি তারেক রহমানের সরকারের অঙ্গীকার। জেলার তিন সংসদ সদস্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন এবং তাঁরা নিয়মিত মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করছেন।
বিকেল ৪টার দিকে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ডহুরী খালের ওপর ৬৮ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য কুন্ডেরবাজার সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন শেখ রবিউল আলম।
মুন্সিগঞ্জ (হাতিমারা)-কুন্ডেরবাজার-শ্রীনগর (ছনবাড়ি) জেলা মহাসড়কের ষষ্ঠ কিলোমিটারে সেতুটি নির্মাণ করা হবে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জরাজীর্ণ ও অপ্রশস্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে থাকা বেইলি সেতু এবং আরসিসি সেতু প্রতিস্থাপন প্রকল্পের ঢাকা জোনের আওতায় সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের প্রস্তাবিত মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

স্টিল কম্পোজিট আই-গার্ডার প্রযুক্তিতে নির্মিতব্য সেতুটির দৈর্ঘ্য হবে ১৫১ দশমিক ৯০ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ৩০ মিটার। দুই লেনের সেতুটিতে তিনটি স্প্যান, দুটি পিয়ার, দুটি অ্যাবাটমেন্ট ও ১৫টি গার্ডার থাকবে। সেতুটির নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ৬২ মিটার।
সেতুর উভয় পাশে ৬০০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। এ জন্য ১ দশমিক ৪৭৮ একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ আলো।

টঙ্গিবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলী আসগর রিপন মল্লিকের সভাপতিত্বে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ।

সমাবেশে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি খান মনিরুল মনি পল্টন, সহসভাপতি আক্তার হোসেন মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান রিকো, সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দারসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বেতকা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কে এম জহিরুল ইসলাম লেলিন।
 

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!