উজানের ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিতে বেড়েই চলছে কুড়িগ্রামের নদ-নদীগুলোর পানি। প্লাবিত হতে শুরু করেছে জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, জেলার ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদে বাড়ছে পানি। বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে তিস্তা। আজ বুধবার সকাল ৯টায় পাউবোর তথ্য, কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা বইছে বিপৎসীমার (২৬ দশমিক ০৫ মিটার) ১ দশমিক ২১ মিটার নিচ দিয়ে। তালুক সিমুলবাড়ী পয়েন্টে এর পানির উচ্চতা ২৯ দশমিক ৯৪ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ৩০ দশমিক ৮৭ মিটার।
পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদ আছে বিপৎসীমার (২৯ দশমিক ৬০ মিটার) ০ দশমিক ৮৫ মিটার নিচে। অন্যদিকে নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র বইছে বিপৎসীমা ২৬ দশমিক ০৫ মিটার থেকে ১ দশমিক ৪৯ মিটার নিচে। এ নদের উচ্চতা চিলমারী পয়েন্টে ২১ দশমিক ৯৭ মিটার, যা বিপৎসীমার চেয়ে ১ দশমিক ২৮ মিটার নিচে।
তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে পানি এখন ২৯ দশমিক ৫ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিপৎসীমার চেয়ে ০ দশমিক ২৬ মিটার নিচে।
পানি বাড়তে থাকায় অনেক এলাকায় তলিয়েছে চীনাবাদাম, পাট, মরিচ ও ভুট্টা ক্ষেত। নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে বাড়ছে বন্যা ও ভাঙন আতঙ্ক। আগামী কয়েক দিনে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেছেন, ভারত থেকে নেমে আসা ঢল এবং অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার নদ-নদীগুলোর পানি বাড়ছে। বিশেষ করে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। তবে বর্তমানে কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানালেন, নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



























