দৃষ্টিভঙ্গির এই দূরত্ব ঘোচাতে আরও খোলামেলা আলোচনা ও পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো দরকার। একই সঙ্গে, বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতিকে সত্যিকার অর্থে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক সাহসিকতা দেখাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর চীন-বাংলাদেশের সহযোগিতার প্রতি ঢাকার প্রতিশ্রুতি কতটা দৃঢ়, তা দুই দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্পষ্ট করবে।
এই সফরের বিষয়ে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমগুলোতে যেসব মূল বিষয় উঠে এসেছে, তার ওপর ভিত্তি করে বলা যায় যে দুই দেশ এখন আরও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রথমত, দুই দেশের মধ্যে শিল্প খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। চীন সব সময় তার দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে উৎপাদনকেন্দ্র গড়ে তুলতে উৎসাহিত করে আসছে, যাতে বাংলাদেশের শ্রম-ব্যয়ের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে রপ্তানির জন্য উচ্চ-মূল্যসংযোজিত পণ্য তৈরি করা যায়।
এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব নয়, তবে এর জন্য উভয় পক্ষের আরও বেশি প্রজ্ঞা ও ধৈর্যের প্রয়োজন। বিশেষ করে, দৃষ্টিভঙ্গির এই দূরত্ব ঘোচাতে আরও খোলামেলা আলোচনা ও পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো দরকার। একই সঙ্গে, বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতিকে সত্যিকার অর্থে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক সাহসিকতা দেখাতে হবে।
দ্বিতীয়ত, বৈশ্বিক দক্ষিণ (গ্লোবাল সাউথ) ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে, যা এশিয়ার শিল্প খাত ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের একীভূত হওয়াকে সহজতর করবে। ‘চীন-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো’ ও ‘চীন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা ফোরাম’–এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের অন্যান্য অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার সেতু হিসেবে কাজ করতে পারে।
সবশেষে, বাংলাদেশকে তার জাতীয় পরিস্থিতির উপযোগী উন্নয়নের পথ খুঁজে পেতে সহায়তার লক্ষ্যে দুই পক্ষই রাষ্ট্র পরিচালনাবিষয়ক অভিজ্ঞতা বিনিময় বৃদ্ধি করবে। রাজনৈতিক দল, চিন্তন প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সরকারগুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ আরও বাড়ানো যেতে পারে।
উন্নয়নের কোনো একক বা ধরাবাঁধা নিয়ম নেই; প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একটি আধুনিকায়নের পথ বেছে নেওয়ার মতো পরিবেশ ও সক্ষমতা—দুই-ই বাংলাদেশের রয়েছে।



























