সিলেট জেলার কুশিয়ারা নদীর পানি অমলশিদ ও শেওলা পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পাশাপাশি পিয়াইন নদীর পানি জাফলং পয়েন্টে বিপৎসীমা ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। সোমবার (২২ জুন) সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৈনিক পরিমাপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ৬টায় কুশিয়ারা নদীর পানি অমলশিদ পয়েন্টে রেকর্ড করা হয়েছে ১৩.০৫ মিটার। সকাল ৯টায় তা সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ১৩.০২ মিটারে। এই পয়েন্টে নদীর বিপদসীমা ১২.৮০ মিটার। অর্থাৎ, পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর দুই তীরের নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কুশিয়ারার শেওলা পয়েন্টেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সকাল ৬টায় এই পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১০.৯৮ মিটার এবং সকাল ৯টায় তা ১০.৯৫ মিটারে নেমে আসে। শেওলা পয়েন্টে বিপৎসীমা ১০.০৫ মিটার। ফলে এখানে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে অবস্থান করছে।
কুশিয়ারার ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে সকাল ৬টা ও ৯টায় পানির উচ্চতা রেকর্ড হয়েছে ৯.০৬ মিটার। এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১০.৮৫ মিটার। পানির উচ্চতা ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।
কুশিয়ারার শেরপুর পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ৭.৪৫ মিটার, যা সকাল ৯টায় সামান্য বেড়ে ৭.৪৬ মিটারে দাঁড়িয়েছে। এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ৮.৫৫ মিটার।
এদিকে, সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানির উচ্চতা বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। সকাল ৬টায় এই পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১১.৬৮ মিটার। সকাল ৯টায় তা ১১.৬০ মিটারে নেমে আসে। কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমা ১২.৯৫ মিটার।
সিলেট শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমার সিলেট পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ৯.৪৪ মিটার, সকাল ৯টায় তা সামান্য কমে ৯.৪১ মিটারে নেমেছে। এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১০.৫০ মিটার।
এদিকে, পিয়াইন নদীর জাফলং পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে। সকাল ৬টায় এই পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড হয়েছে ১০.১০ মিটার। সকাল ৯টায় তা ১০.০৪ মিটারে নামলেও বিপৎসীমার ওপরেই দিয়েই পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পর্যটননগরী জাফলংয়ের নিচু এলাকায় পানি প্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সারিগোয়াইন নদীর সারিঘাট পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১০.৫৪ মিটার, বিপৎসীমা ১২.৩৫ মিটার। একই নদীর গোয়াইনঘাট পয়েন্টে সকাল ৬টায় ৯.৬৯ মিটার এবং সকাল ৯টায় ৯.৬৪ মিটার পানি রেকর্ড করা হয়েছে, এখানে বিপৎসীমা ১০.৮২ মিটার।
ধলা নদীর ইসলামপুর পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ৯.৩২ মিটার এবং সকাল ৯টায় তা ৯.৩০ মিটারে নেমে এসেছে। লোভাছড়া নদীর লোভাছড়া পয়েন্টে কোনো পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়নি।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, “সামগ্রিকভাবে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। উজানে ভারতের মেঘালয়ে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।”































