অস্ট্রিয়াকে হারাতে পারলেই ক্লোসার রেকর্ড ভেঙে ফেলবেন মেসি 


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
অস্ট্রিয়াকে হারাতে পারলেই ক্লোসার রেকর্ড ভেঙে ফেলবেন মেসি 

ধুলো ওড়ানো তপ্ত বাতাস। রোদে পোড়া চামড়ার জ্যাকেট। কোমরে ঝুলতে থাকা রুপালি কোল্ট পিস্তল আর মাথার ওপর সেই চেনা কাউবয় হ্যাট– হলিউডের ওয়েস্টার্ন সিনেমায় বারবার এভাবেই তো ধরা পড়েছে কাউবয় টেক্সাসের নায়করা। অবশ্য ডেনিম জমানার অনেক আগে থেকেই ডালাস আসলে এক আদিম, পৌরুষদীপ্ত রোমাঞ্চের আঁতুড়ঘর। এখানকার মাটির গভীরে মিশে আছে এক অদ্ভুত একরোখা জেদ, যা কেবল টিকে থাকার নয়; বরং বুক চিতিয়ে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানানোর। 

আজ সেই শহরেই লিওনেল মেসি যেন ওয়েস্টার্ন ক্ল্যাসিক ক্লিন্ট ইস্টউডের ‘ম্যান উইথ নো নেম’রূপে আবির্ভাব হতে যাচ্ছেন। ডালাসের রোদে সবাই যখন ফুটছে, এই মানুষটা তখনও আশ্চর্য রকম শান্ত। কিন্তু প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ভালো করেই জানে, তার এই নীরবতাই ফুটবল মাঠের সবচেয়ে মারাত্মক। কিন্তু আজকের ম্যাচে যে আরেক নীরব প্রতিপক্ষও রয়েছে মেসির। জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসা– বিশ্বকাপে ১৬ গোলের দুর্গটা তাঁর হুমকির মুখে।


ডালাসের বুট-হ্যাট পরা আদিম পৌরুষের এই ডেরায় মেসি আসলে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ‘আউট ল’। যিনি নিজের ভাগ্য নিজেই লিখতে ভালোবাসেন। কাউবয়রা যেভাবে কোমরে ঝুলতে থাকা রুপালি কোল্ট পিস্তল থেকে চোখের পলকে নিখুঁত নিশানায় বুলেট ছোড়েন, মেসিও ঠিক তেমনি বল পায়ে ডিফেন্সের বুক চিরে ‘ম্যাজিক বুলেট’ বের করতে ওস্তাদ। গায়ের জোর নয়, ক্ষুরধার মস্তিষ্ক আর জাদুকরি ড্রিবলিংয়ের চাতুর্য দিয়ে তিনি প্রতিপক্ষের অহংকার ভেঙে চুরমার করে দেন। এটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়ামে কোল্ট পিস্তলে যেন তিনটি বুলেট (তিনটি রেকর্ড) নিয়ে আজ নামবেন মাঠে। বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি ১৭টি গোল করার লক্ষ্য, বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি জয় গড়ার রেকর্ড আর দূরপাল্লার শটে ব্রাজিলের রিভেলিনোর সাম্রাজ্য দখল। 

তবে কিনা তিনি নিজে এসব ব্যক্তিগত অর্জনে অতটা আহ্লাদিত হন না। এটি শুধু মুখের কথা নয়; মেসি-ঘনিষ্ঠ আর্জেন্টাইনদের কাছ থেকেই শোনা। মেসিকে সত্যিকারের খুশি হতে দেখেছেন তারা কেবল আর্জেন্টিনার সাফল্যেই। আজ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলেই নাকি সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন মেসি। তাঁকে খুশি রাখাতেই যে আর্জেন্টিনার সাফল্য সাজানো থাকে। যদিও আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেও কিছু অযাচিত ঘটনায় বিরক্ত ছিলেন তিনি। তাঁর বাবা হোর্হে মেসির অসুস্থতা নিয়ে স্বদেশি মিডিয়ার বাড়াবাড়ি তাঁর পছন্দ হয়নি। যদিও কাল কানসাসে দলের সঙ্গেই অনুশীলনে তাঁকে হাসিখুশি দেখেছেন অনেকে। তাদেরই ধারণা, ডালাসে আজ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও তীক্ষ্ণ নিশানার গানস্লিংগার হবেন এই লিওনেল মেসিই।


আলজেরিয়া ম্যাচে হ্যাটট্রিক তাঁকে এনে দাঁড় করিয়েছে ১৬টি বিশ্বকাপ গোলের চূড়ায়, যা জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার বহু বছরের অক্ষত রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেছে। আজ অস্ট্রিয়ার জালে আর মাত্র একটা বল জড়ানো– ব্যস! ১৭টি গোল নিয়ে এককভাবে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুটে বসবেন এই বাঁ পায়ের জাদুকর। ক্লোসার আরও একটি রেকর্ডও ভাঙা তাঁর কাছে সময়ের ব্যাপার মাত্র। বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে মেসির মোট জয়ের সংখ্যা এখন ১৬। অস্ট্রিয়াকে হারাতে পারলেই ক্লোসার রেকর্ড ভেঙে এককভাবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জেতা ফুটবলার হয়ে যাবেন তিনি।

ডালাসে এসে মনে হয়েছে, কাউবয় সংস্কৃতি কোনো সস্তা লোকনাট্য নয়; এ হলো এক জীবনদর্শন। যেখানে দীর্ঘ চাবুকের একেকটি শব্দে লুকিয়ে থাকে মাইলের পর মাইল গবাদি পশুর পাল তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্লান্তিহীন ইতিহাস। এখানকার কাফ-রোপিং বা বুল-রাইডিংয়ের রুদ্ধশ্বাস রডিও রিংগুলো আসলে একেকটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধক্ষেত্র। যেখানে চড়া আলোর নিচে প্রতিটি সেকেন্ড জীবন আর মৃত্যুর মধ্যে দুলতে থাকে। ওল্ড টেক্সাসের স্যালনগুলো থেকে ভেসে আসা কান্ট্রি মিউজিকের সুর আজও মনে করিয়ে দেয়–এখানে প্রেম যতটা নরম, লড়াই ঠিক ততটাই বারুদমাখা। এমনই এক শহরে এসে আজ বিশ্বকাপ ইতিহাসের একটি বড় মাইলফলক স্থাপন করতে যাচ্ছেন। সেখানে মেসিকে কাউবয় সাজিয়ে একটু ক্লাইম্যাক্স চাইতেই পারে ডালাস!

Link copied!