মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া একত্রে কাজ করবে। এর মধ্যে আসিয়ানের মাধ্যমে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা প্রক্রিয়াও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মালয়েশিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যম দ্য স্টারের প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মাধ্যমে এই প্রচেষ্টা চালানো হবে।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার যৌথ সংবাদ সম্মেলন
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ এবং এখানে (মালয়েশিয়ায়) আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দুরবস্থা নিরসনে কাজ করব।
আজ সোমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সমস্যা সমাধানে আমরা আসিয়ানের মাধ্যমে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করব।
আরেক গণমাধ্যম বার্নামা জানায়, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বিনিয়োগ ও পারস্পারিক সহযোগিতা নিয়েও কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতাকে গতানুগতিক খাতের বাইরে নিয়ে গিয়ে গবেষণা ও নতুন প্রযুক্তির দিকে প্রসারিত করতে হবে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ওপর জোর দিতে হবে, যা ভবিষ্যতের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি আরও বাড়ানো উচিত। আমি যেমনটি বলেছি, কৃষি অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে বহাল থাকলেও এখন আমাদের সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল অর্থনীতি, জ্বালানি ও উন্নত প্রযুক্তির উৎপাদন শিল্পের মতো নতুন ক্ষেত্রগুলোর দিকেও নজর দিতে হবে।
এর আগে তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিম সাংস্কৃতিক সহযোগিতার একটি সমঝোতা স্মারকসহ সন্ত্রাসবাদ বিরোধী গবেষণা এবং বিনিয়োগের প্রসার ও সহায়তার লক্ষ্যে আরও দুটি নোট বিনিময় কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।
মালয়েশিয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করে দেশটিতে সরকারি সফরে যাওয়ায় তারেক রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, আমি খুবই আনন্দিত এই কারণে যে তিনি (তারেক রহমান) নিজের রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য প্রথম দেশ হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন এবং এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত প্রশংসিত। এটি তা অকৃত্রিম আন্তরিকতা ও অটুট আস্থারই প্রতিফলন।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের শক্তিশালী সম্ভাবনা রয়েছে এবং তিনি মালয়েশীয় ব্যবসায়ীদের বিদ্যমান সুযোগগুলো অন্বেষণ করার জন্য আমন্ত্রণ জানান।
তিনি জানান, আজকের আলোচনায় জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য উচ্চ-মূল্যের শিল্পসহ বিস্তৃত খাত নিয়ে কথা হয়েছে।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা আমাদের দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন। তাদের অবদান আমাদের দুই দেশের অর্থনীতি ও সমাজের জন্য উপকারী।
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনের পঞ্চম তলায় উভয়ে একান্ত এ বৈঠকে বসেন। একান্ত বৈঠকে বসার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিদর্শন বইয়ে সই করেন।






























