যুদ্ধবিরতির প্রভাব 

পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেনে বড় উত্থান


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেনে বড় উত্থান

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রভাবে গতকাল দেশের পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেনে বড় উত্থান হয়েছে।
এদিন প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সূচকের পাশাপাশি এদিন এক্সচেঞ্জটির দৈনিক লেনদেন বেড়েছে ৬৬ শতাংশ। দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গতকাল সূচক ও লেনদেন বেড়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, যুদ্ধবিরতির খবরে গতকাল লেনদেনের শুরুতেই শেয়ার কেনার চাপে বাড়তে শুরু করে সূচক, লেনদেন শেষ হওয়া পর্যন্ত যা বজায় ছিল। দিনশেষে ডিএসইএক্স সূচক ১৬১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩১৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫ হাজার ১৫৭ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৯৭১ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস এদিন ৩০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৪৬ পয়েন্ট। গতকাল সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, পূবালী ব্যাংক ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার।
ডিএসইতে গতকাল ৯৯১ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫৯৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে একদিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ৬৬ শতাংশ। গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৯৩টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৬৭টির, কমেছে ১৫টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ১১টির।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিকভাবেই পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বাংলাদেশেও যুদ্ধের প্রভাবে সূচক ও লেনদেনে নিম্নমুখিতা দেখা গেছে। গতকাল লেনদেন শুরুর আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির খবর বিনিয়োগকারীদের সাময়িক স্বস্তি দিয়েছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমে এলে সেটি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে। পুঁজিবাজারেও এর প্রতিফলন দেখা যাবে, এমন প্রত্যাশার কারণে গতকাল বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বেশি দেখা গেছে।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। ১২ দশমিক ৭ শতাংশ দখলে নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রকৌশল খাত। ব্যাংক খাত ১২ দশমিক ৭ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে ছিল। ৮ দশমিক ৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ স্থানে ছিল বস্ত্র খাত। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা বিবিধ খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৮ দশমিক ৬ শতাংশ।
ডিএসইতে সব খাতের শেয়ারে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে পাট খাতে। এছাড়া ব্যাংক খাতে ৪ দশমিক ১ শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তি ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩ দশমিক ৪, কাগজ ও মুদ্রণ এবং টেলিযোগাযোগ খাতে ৩ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে।

দেশের আরেক পুঁজিবাজার সিএসইর নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ১৯২ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ৫৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই এদিন ৩২৮ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৮১৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ২০২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৭টির, কমেছে ১৯টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ছয়টির। গতকাল সিএসইতে ৩১ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২৭ কোটি টাকা।

Link copied!