মোহিত সূরীর শৈশব সহজ ছিল না। মাত্র ৮ বছর বয়সে মাকে হারিয়েছিলেন। ১৬ বছর বয়স থেকেই শুরু হয়ে যায় কর্মজীবন। সম্পর্কে মহেশ ভট্ট তাঁর মামা। কিন্তু বলিউডে পাকাপাকি জায়গা তৈরি করা খুব সহজ ছিল না মোহিত সূরীর জন্য। কাজ শুরু করেছিলেন ‘অফিস বয়’ হিসাবে। বর্তমানে তিনি বলিউডের অন্যতম সফল পরিচালক। ২০২৫-এ তাঁর ছবি ‘সইয়ারা’ বক্সঅফিসে আলোড়ন ফেলেছিল। সেই ছবির সাফল্যের পর থেকে আবার মোহিত আলোচনায়।
মোহিত সূরীর শৈশব সহজ ছিল না। মাত্র ৮ বছর বয়সে তিনি মাকে হারিয়েছিলেন। ১৬ বছর বয়স থেকেই শুরু হয়ে যায় কর্মজীবন। মামা মহেশ ভট্টের সঙ্গে অফিসে ‘বয়’-এর কাজ করতেন। বিভিন্ন প্রযোজনা সংস্থা অফিসে ‘ক্যাসেট’ পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাঁর অন্যতম কাজ।
এর কিছু দিন পরে তিনি বিক্রম ভট্টের সঙ্গে সহকারী পরিচালক হিসাবে কাজ করেন। ২০০১ সালে ‘কসুর’ ও ২০০৩ সালে ‘ফুটপাথ’ ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসাবে কাজ করেছিলেন। ক্রমে বোঝেন, ছবি পরিচালনাই করতে চান তিনি। ২০০৫ সাল থেকে পরিচালক হিসাবে সফর শুরু করেন। প্রথম ছবি ‘জ়েহের’। অভিনয় করেছিলেন ইমরান হাশমী, শমিতা শেট্টী ও উদিতা গোস্বামী। সেই বছরই তাঁর আরও একটি ছবি ‘কলিযুগ’ মুক্তি পেয়েছিল। সেই ছবিও দর্শকের প্রশংসা পেয়েছিল। ২০০৭ সালে মোহিতের ছবি ‘আওয়ারাপন’ সমালোচক মহলে বিশেষ প্রশংসা পেয়েছিল। মোহিতের ছবির গান বরাবরই বিশেষ ভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করে। তাঁর ছবি ‘মার্ডার ২’-এর গানও প্রশংসিত হয়েছিল। তবে নজির গড়েছিল মোহিতের ছবি ‘আশিকি ২’। গানকে কেন্দ্র করেই ছবি। প্রতিটি গান আজও সঙ্গীতপ্রেমীদের কানে বাজে। সেই একই ধারা বজায় রেখেছে ২০২৫ সালের ছবি ‘সইয়ারা’।
মোহিতের ব্যক্তিগত জীবনও শিরোনামে উঠে এসেছে। নিজের প্রথম ছবি অর্থাৎ ‘জ়েহের’-এর নায়িকা উদিতা গোস্বামীকে বিয়ে করেন তিনি। সালটা ছিল ২০১৩। ‘পাপ’ ছবিতে উদিতা অভিনয় করেছিলেন। সেই সময় থেকেই তাঁর প্রেমে পড়েছিলেন মোহিত। ৭ বছর সম্পর্কের পরে তাঁরা বিয়ে করেছিলেন। দুই সন্তানও রয়েছে তাঁদের— দেবী ও কর্ম।
২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী মোহিত বলিউডের অন্যতম সফল পরিচালক। তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১১৩ কোটি। তিনি প্রতি ছবি পরিচালনার জন্য প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন। তারকা পরিবারে জন্মেও বিশেষ সুবিধা কখনও পাননি মোহিত। ‘অফিস বয়’ থেকে কাজ শুরু করে নিজের যোগ্যতায় বলিউডে নিজের স্থান তৈরি করেছেন পরিচালক।

































