• ঢাকা
  • সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১, ৮ মুহররম ১৪৪৫

বিবাহিতদের সঙ্গে প্রেম!


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৪, ০৫:৩১ পিএম
বিবাহিতদের সঙ্গে প্রেম!
ছবি: সংগৃহীত

‘প্রেমের তো বয়স নেই রে, প্রেম-ভালোবাসা যেকোনো বয়সে/ যে কারো সঙ্গেই হতে পারে’- এটা আবেগের কথা। বিবেকের কথা হচ্ছে, ‘ভালোবাসার মানুষ একজনই যথেষ্ট।‘ আবেগ আর বিবেকের খেলার মাঝে দোল খায় মানুষের মন। যেমনটা এখন প্রায়ই দেখা যায়, বিবাহিতদের সঙ্গে প্রেম-ভালোবাসা। বয়স যেমনই হোক তাতে কোনো বাধা নেই। বরং বিবাহিতদের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে অবিবাহিতরাও। বিবাহ বহির্ভূত এই সম্পর্কের নাম হয় পরকীয়া। যা থেকে বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদ। একাকিত্ব, হতাশা থেকে মানুষের মধ্যে জন্ম নিচ্ছে মানসিক প্রতিবন্ধকতা।
বিবাহিতদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে আপনিও জড়াতে পারেন। কিংবা কোনো বিবাহিত মানুষের কাছ থেকে প্রেমের প্রস্তাব পেতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার করণীয় কী হবে? অনেকেই আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। তখন বিবাহিত না অবিবাহিত তাতে কোনো আপত্তিই করেন না। প্রেম শুরু করে দেন। এক্ষেত্রে প্রথম দিকে সম্পর্কে মোহ থাকলেও এক সময় তা কাটার মতো আঘাত করে। কারণ পুরোনো সম্পর্ক রেখে অনেকেই নতুন সম্পর্ককে স্বীকৃতি দিতে নারাজ থাকে। আবার দিন দিন চাহিদা বাড়তেই থাকে যার ফলে পুরোনো সম্পর্ক ও নতুন সম্পর্কের মাঝে সামঞ্জস্য করতে গিয়ে বিপদে পড়তে হয়। তাই বিবাহিতদের সঙ্গে প্রেমের বিষয়ে কিছু হিসেবে-নিকেশ করে নিন।
•    বিবাহিত মানুষের সঙ্গে প্রেম সাধারণত গোপনই রাখতে হয়। কারণ জানাজানি হলে  লোকমুখে কটু কথা শুনতে হবে। কারণ এই ধরণের সম্পর্ক সমাজে গ্রহণযোগ্যতা পায় না। 
•    বিবাহিতদের সঙ্গে প্রেমে দুটো মিশ্র অনুভূতি কাজ করে। একটি হলো তীব্র লজ্জার। অন্যটি হলো অপরাধবোধ। কেউ না জানলেও নিজের বিবেকের কাছে লজ্জিত হতে হয়। যা থেকে অপরাধবোধ জন্ম নেয়। কারণ অন্যকে ঠকানোর অপরাধবোধে নিজের বিবেকের কাছেই লজ্জিত হতে হয়। অনেকে এই উপলব্ধির পরে নিজেকে গুটিয়ে নেন।
•    জীবনসঙ্গীর সঙ্গে বোঝাপড়া থাকলে অনেকেই নতুন সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেন। এতে দাম্পত্য কলহ বাড়ে। পরিবারে সন্তানদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। এমনকি সন্তানদের ভবিষ্যতও হুমকির মুখে পড়তে পারে। কারণ সন্তানদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ভর করে।
•    প্রতিটি মানুষই স্বতন্ত্র। তাদের চাহিদাও ভিন্ন। তবে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার মূল মন্ত্রথাকে ভালোবাসায়। ভালোবাসা পেলে এবং দিলে সঙ্গীকে নিজের করে রাখা যায়। যারা সঙ্গীর প্রতি উদাসীন কিংবা যারা সঙ্গীর কাছ থেকে অবহেলা পাচ্ছেন তারাই অন্য সম্পর্কে বেশি জড়ান। এক্ষেত্রে বিবাহিতরা অন্য নারী বা পুরুষের দিকে ঝুঁকে যায়। কিন্তু সেখানেও যে সব পারফেক্ট হয় না। বরং একটা সময় গিয়ে পরিবারের মূল্যায়নটা বোঝা যায়।
•    সম্পর্কে গোপনীয়তা এবং প্রাইভেসির মধ্যে সূক্ষ্ম ব্যবধান রয়েছে। যা বুঝতে পারলেই দাম্পত্য সাফল্য পাওয়া যায়। সঙ্গীকে প্রাইভেসি দিলে সে অন্য কারো প্রতি ঝুঁকে যায় না। বরং প্রাইভেসি না পেলেই সঙ্গী বিভিন্ন বিষয় গোপন করা শুরু করে। তাই সম্পর্কে স্পেস থাকাও জরুরি।
•     ‘চিটিং ইজ আ চয়েস’-কথাটি তাদের জন্য, যারা বিবাহিতদের প্রেমে পড়েছেন। মনে রাখবেন, বিবাহিত মানুষটি তার পূর্বের সম্পর্কে চিটিং করছেন, তিনি হয়তো আপনার সঙ্গেও এমনটাই করতে পারেন। আপনি কতটুকু চিটিং গ্রহণ করবেন? তখন আপনি কতটা নিজেকে সামলে নিবেন? তাই নিজেকে ভালো রাখার জন্য এই প্রশ্নের উত্তর জানা প্রয়োজন।
•    সাময়িক আনন্দের জন্য বিবাহিতদের সঙ্গে প্রেম করছেন। সঙ্গীও যদি তেমনটাই করেন। সঙ্গীও যদি আপনার অবহেলা পেয়ে অন্য কারো সঙ্গে সাময়িক আনন্দ উপভোগ করেন তবে তা মেনে নিতে পারেবন কি? নিজের চোখে আয়না ধরুন। ভাবুন, যে আচরণটা জীবনসঙ্গীর সঙ্গে করছেন, তা আপনার সঙ্গে হলে কতটুকু মেনে নিবেন? তাইতো কথায় বলে- ‘ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না’।

Link copied!