ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে আটক হওয়ার একদিন পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
রাস্তায় থাকা শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার কথা জানিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে প্রধানমন্ত্রী মোদির ক্ষমা চাওয়া, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার বলছে, সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী গত সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে অংশ নেয়া বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের একটি ভিডিও দেখান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের তিনটি দাবি পুরোপুরি যৌক্তিক এবং বিরোধী জোটের সবাই তাদের পাশে রয়েছে।
রাহুল বলেন, ‘প্রথম দাবি হলো— শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ব্যর্থ এবং দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে পরিচিত ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দায়িত্ব থেকে সরাতে হবে। এটি শতভাগ যৌক্তিক দাবি। এতে কোনও ভুল নেই। তিনি ভারত ও বিশ্বের সামনে প্রমাণ করেছেন যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনার সক্ষমতা তার নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় দাবি হলো, যারা শিক্ষার্থীদের ওপর হাত তুলেছে, যারা এর নির্দেশ দিয়েছে এবং যারা তা কার্যকর করেছে— তাদের প্রত্যেককে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। আর তৃতীয় দাবি হলো, পুরো ঘটনার জন্য চূড়ান্তভাবে দায়ী ব্যক্তি যেন শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চান’। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতি ইঙ্গিত করেন।
রাহুল বলেন, গত ১০ বছরে ভারতে ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, যার প্রভাব পড়েছে ৭ কোটি ৫০ লাখ শিক্ষার্থীর ওপর। কিন্তু এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারও দণ্ড হয়নি। তিনি বলেন, ‘১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একজনেরও সাজা হয়নি।’
রাহুলের অভিযোগ, একসময় ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তির একটি হিসেবে বিবেচিত শিক্ষা ব্যবস্থা এখন ‘কারচুপির ব্যবস্থায়’ পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রতি মাসে লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে বলা হচ্ছে, যে চাপের মধ্য দিয়ে তোমরা গেছ, আবারও সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আর এ বিষয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই।’
রাহুল বলেন, পরিবারগুলো প্রতি বছর পরীক্ষার পেছনে প্রায় এক লাখ ৩২ হাজার কোটি রুপি ব্যয় করে, যা প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার কোটি রুপির শিক্ষা বাজেটের সমান। এরপরও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পেছনে আরও মৌলিক একটি কারণ রয়েছে। পড়াশোনা শেষ করে চিকিৎসক, আইনজীবী বা অন্য কোনও পেশার জন্য যোগ্যতা অর্জনের পরও তারা দেখছে, দেশের সরকার যে চাকরির সুযোগ দেয়ার কথা, সেই দরজাই তাদের জন্য বন্ধ।’
রাহুলের দাবি, চীনা পণ্যে বাজার ছেয়ে যাওয়ায় উৎপাদন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ কমে গেছে, করপোরেট চাকরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দখল করে নিচ্ছে, সরকারি খাত ক্রমেই বেসরকারিকরণের দিকে যাচ্ছে। ফলে সরকারি চাকরিই এখন অনেকের একমাত্র ভরসা।
তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থী যা অনুভব করছে, তার সঙ্গে আমরা শতভাগ একমত। কয়েক দিন আগে যা ঘটেছে, তার পরিণতি অবশ্যই ভোগ করতে হবে।’
ধর্মেন্দ্র প্রধানকে উদ্দেশ করে রাহুল বলেন, ‘এই ব্যক্তি ভারতের সবচেয়ে বড় সম্পদ— আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। একসময় যা ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে পরিচিত ছিল, সেটিই এখন ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা শিক্ষার্থীদের সব দাবি এবং রাস্তায় নেমে আসা প্রতিটি মানুষের সব দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাই।’
রাহুল বলেন, ‘ভারতের মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানোই আমার দায়িত্ব। শিক্ষার্থী, তরুণ কিংবা কৃষক— যেই হোক, বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা আমার দায়িত্ব।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে মানুষের কষ্ট, সেখানে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করাই আমার কাজ। এ জন্য সামান্য মারধর বা ঘুষি খাওয়া কোনও বড় বিষয় নয়। মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারা আমার জন্য সম্মানের। প্রয়োজন হলে আমি আরও অনেক কিছু সহ্য করতেও প্রস্তুত।’


































