সিজেপির বিক্ষোভে মুম্বাইয়ে আটক অভিনেত্রী আয়েশা খান


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
সিজেপির বিক্ষোভে মুম্বাইয়ে আটক অভিনেত্রী আয়েশা খান

ভারতে নিট পরীক্ষার অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁস নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন তুঙ্গে। শিক্ষার্থীদের ককরোচ জনতা পার্টির এই আন্দোলনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে বিনোদন অঙ্গনেও।

এবার সেই আন্দোলনের জেরে রাজপথ থেকে আটক হলেন ‘ধুরন্ধর’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রী আয়েশা খান। গত ২২ জুলাই মুম্বাইয়ের রাস্তায় শান্তিপূর্নভাবে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে পুলিশ ভ্যানে তোলে মুম্বাই পুলিশ।

আটকের পরপরই প্রিজন ভ্যান থেকে নিজের ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন আয়েশা খান। থরথর করে কাঁপা কণ্ঠে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার হাত এখন ভয়ে কাঁপছে! আমি কোনো স্লোগান দিইনি, কোনো প্রতিবাদও শুরু করিনি। কেবল আমার ভাই আর বন্ধুদের আটক করায় আমি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। আর তাতেই ৪-৫ জন নারী পুলিশ সদস্য এসে আমাকে ডানে-বায়ে টানাটানি করে জোর করে ভ্যানে তুলে নিয়ে এলো!’

ভিডিওতে ক্যামেরা ঘুরিয়ে ভ্যানের ভেতরের দৃশ্য দেখান আয়েশা। সেখানে দেখা যায় অসংখ্য তরুণ-তরুণীকেও আটকে রাখা হয়েছে। আয়েশা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘কাউকে কোনো কারণ জানানো হচ্ছে না। পুলিশ আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, প্রশ্নের কোনো জবাব দিচ্ছে না। তারা আমাদের ওপর অন্যায় করছেন!’


অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আয়েশা যখন পুলিশের গাড়িতে উঠতে আপত্তি জানাচ্ছিলেন, তখন চারজন নারী পুলিশ সদস্য তাকে জোর করে ভ্যানের ভেতর ঠেলে দিচ্ছেন।

ভিডিওটি শেয়ার করে আয়েশা প্রশ্ন তোলেন, ‘আমাকে ভেতরে ঢোকাতে চারজন পুলিশ লাগল! কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো—কেন? আমি কি কোনো গোলমাল করেছি? আমি তো ৫ জনের বেশি মানুষের জটলাতেও ছিলাম না, তবে কেন এই নির্যাতন?’

এর আগে দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অ্যাকশনের খবর সামনে এলে মূলধারার মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন আয়েশা।

অভিনেতা ওমি বৈদায়ের একটি পোস্ট শেয়ার করে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি পাপারাজ্জি ও গণমাধ্যমের কাছে হাত জোড় করে অনুরোধ করছি, দয়া করে আপনারা দেশের এই বাস্তব পরিস্থিতি মানুষের সামনে তুলে ধরুন। আমরা গ্ল্যামার, রূপচর্চা আর ফালতু বিতর্ক নিয়ে এত ব্যস্ত যে দেশের আসল সমস্যাগুলো এড়িয়ে যাচ্ছি।’

বর্তমানে আয়েশা খান সহ আটককৃত অন্য শিক্ষার্থীদের কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে মুম্বাই পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও অফিসিয়ালি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Link copied!