গোয়েন্দা কর্মকর্তার পদ থেকে তুলসী গ্যাবার্ডের পদত্যাগ


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ২৩, ২০২৬, ১০:৫১ এএম
গোয়েন্দা কর্মকর্তার পদ থেকে তুলসী গ্যাবার্ডের পদত্যাগ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তুলসী গ্যাবার্ড।

তার এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত পদত্যাগপত্রের বরাতে শুক্রবার রাতে এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।

পদত্যাগপত্রে গ্যাবার্ড ট্রাম্পকে লিখেছেন, “আমার ওপর আপনি যে আস্থা রেখেছেন এবং গত দেড় বছর জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের কার্যালয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার যে সুযোগ দিয়েছেন, তার জন্য আমি গভীর কৃতজ্ঞ।”

কারণ হিসেবে তিনি লিখেছেন, তার স্বামীর সম্প্রতি ক্যান্সার শনাক্ত হয়। এ কারণে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরাবর তুলসী গ্যাবার্ড যে চিঠি লিখেছেন, সেখানে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ৩০ জুন কার্যকর হওয়ার কথা বলা আছে।

ট্রাম্প তার 'ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া পোস্টে তুলসী গ্যাবার্ডের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি লিখেছেন, “চমৎকারভাবে দায়িত্ব পালন করে আসা তুলসী গ্যাবার্ড আগামী ৩০ জুন প্রশাসন ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।

“তুলসী অবিশ্বাস্য দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আমরা তাকে মিস করব।”

ট্রাম্প জানান, ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের প্রিন্সিপাল ডেপুটি ডিরেক্টর অ্যারন লুকাস এই পদে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আল জাজিরা লিখেছে, ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার সিদ্ধান্ত যখন ট্রাম্প প্রশাসন নেয়, তখন তুলসীর মতামতকে একপ্রকার উপেক্ষা করা হয়।

অন্যদিকে ইরান ইস্যুতে শুরুতে নীরব ছিলেন গ্যাবার্ড। পরে ইরানে ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিলেন তিনি।

তুলসী গ্যাবার্ডের জন্ম ১৯৮১ সালে; যুক্তরাষ্ট্রের সামোয়ায়। ৪৪ বছর বয়সী এই রাজনীতিক যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হিন্দু কংগ্রেস সদস্য।

১৯৮৩ সালে তুলসী গ্যাবার্ডের পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই রাজ্যে স্থায়ীভাবে বাস করতে শুরু করে। তার মা হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন। তার বাবা রোমান ক্যাথলিক খ্রিষ্টান ছিলেন। হিন্দু ধর্মে অনুরাগের কারণে গ্যাবার্ডের মা সন্তানের হিন্দু নাম রাখেন।

তুলসী গ্যাবার্ড হাওয়াই থেকে ২০১৩ সালে প্রথমবার এমপি হিসাবে নির্বাচিত হন। ২০২১ সাল পর্যন্ত ওই পদে ছিলেন তিনি। রাজনীতি ছাড়াও দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তুলসী। ইরাক ও কুয়েতের মতো দেশেও ওই সময় মোতায়েন ছিলেন তিনি।

২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের তীব্র সমালোচনা করে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ছেড়েছিলেন তুলসী। তার আগে ২০২০ সালে বাইডেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়েও তিনি শামিল হয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছিলেন তুলসী।

প্রথমে তিনি স্বতন্ত্র হিসাবে নাম নিবন্ধন করেছিলেন। পরে ২০২৪ সালে রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দেন তুলসী । চলতি বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারাভিযানে সাহায্য করেন তিনি।

রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেইনকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের বিরোধিতা করেছিলেন তুলসী।

তুলসীর বাবা মাইক গ্যাবার্ডও ছিলেন রাজনীতিবিদ। তিনি রিপাবলিকান থেকে ডেমোক্র্যাটদের দিকে চলে গিয়েছিলেন। ছিলেন সেনেটারও।

Link copied!