অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ত্রিদেশীয় চুক্তির প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউরোপের আরেক পরাশক্তি ফ্রান্স। এর প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় ফরাসি রাষ্ট্রদূতদের দেশে ফিরেয়ে নিয়েছে দেশটি।
রাষ্ট্রদূতদের ডেকে পাঠানোর পর ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-ইভেস লে ড্রিয়ান বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মূলত এই চুক্তির জন্য ফ্রান্সের সঙ্গে কয়েক শ কোটি ডলারের সামরিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী চুক্তির প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এই চুক্তির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া আমাদের বিশ্বাস ভেঙে দিয়েছে। আমাদের পেছন থেকে ছুরি মারা হয়েছে।”
অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের অকাস চুক্তির আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি আর সাইবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করবে তিন দেশ। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়াকে পারমাণবিক সাবমেরিন প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।
দুই সপ্তাহ আগেও ফ্রান্সের কাছ থেকে সাবমেরিন পাওয়ার কথা থাকলেও হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত বদল করে অস্ট্রেলিয়া। আর অকাস চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই সে খবর জানতে পারে ফ্রান্স।
বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এই চুক্তির ঘোষণা দেন। যৌথ বিবৃতিতে তারা জানান, “অকাস চুক্তি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা অর্জন ও যৌথ স্বার্থে সহায়তা জোরদার করবে।”
বিবৃতিতে এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এ অঞ্চলে চীনের সামরিক ও ক্রমবর্ধমান আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তিন দেশই উদ্বিগ্ন।
তাই সাইবার সক্ষমতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সাগরতলে সামরিক কার্যক্রমে সক্ষমতাও বাড়াতে ভূমিকা রাখবে এই চুক্তি।



































