যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন লিজ ট্রাস। দায়িত্ব গ্রহণ করবেন মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর)। নির্বাচনে জেতার পর তিনি ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এই নির্বাচনে তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী ঋষি সুনাককে ২০ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন। অর্জন করেছেন তুমুল জনপ্রিয়তা। হয়েছেন যুক্তরাজ্যের তৃতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। তার রাজনৈতিক জীবনে উত্থান পতন যেমন আছে, তেমনি তার ব্যক্তিগত জীবনও বেশ রোমাঞ্চকর।
কে এই ৪৭ বছর বয়সী রাজনীতিক? কী তার পরিচয়?
মেরি এলিজাবেথ ট্রাস ১৯৭৫ সালের ২৬ জুলাই ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড শহরের এক শিক্ষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। স্কুল জীবন থেকেই তিনি লিজ ট্রাস নামে পরিচিত। তার পিতা জন কেনেথ, ইউনিভার্সিটি অব লিডস এর এমিরেটাস অধ্যাপক একজন গণিত শিক্ষক। তার মা প্রিসিলিয়া মেরি ট্রাস পেশায় একজন নার্স এবং বোল্টন স্কুলের শিক্ষক। তিনি সেখানে লেটিন ভাষা শেখান।
লিজ ট্রাস ছোটবেলা থেকেই পরিবারের সাথে বিভিন্ন জায়গায় থেকেছেন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন। ১৯৭৯ সালে পরিবারের সাথে চলে যান স্কটল্যান্ডে এবং এরপর চলে যান কানাডায়। সেখানে এক বছর থেকে চলে আসেন যুক্তরাজ্যে এবং পড়াশোনা শুরু করেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সেখানে পড়েছেন দর্শন, রাজনীতি এবং অর্থনীতি নিয়ে।
ট্রাসের রাজনীতির শিক্ষা শুরু হয়েছে পরিবার থেকেই। এরপর শিক্ষাজীবনে এসে হয়েছিলেন বিরোধী দল লিবারাল ডেমোক্র্যাট পার্টির কর্মী। ৮০’র দশকে মিছিল করেছিলেন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা এবং যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের বিরুদ্ধে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালেয়ে পড়ার সময় তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের লিবারেল ডেমোক্র্যাট পার্টির পেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ছাত্রদের লিবারাল ডেমোক্র্যাট পার্টির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সক্রিয় সদস্যও ছিলেন।
এরপর ১৯৯৬ সালে যোগ দেন কনজারভেটিভ পার্টিতে।
তিনি ১৯৯৬-২০০০ সাল পর্যন্ত চাকরি করেছেন কয়েকটি বড় কোম্পানিতে। বিয়ে করেন একাউন্টেন্ট হিউ ও’লেরিকে। তিনি দুই সন্তানের জননী।

২০০৮ সালে পরপর দুইটি নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর তিনি আরেকটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি শুরু করেন। তবে ১৯৯৮ সাল থেকেই তিনি পুরোদমে রাজনীতির মাঠে ছিলেন।
২০১০ সালে লিজ ট্রাস প্রথমবারের মতো কোনো নির্বাচনে জয়লাভ করেন এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কনজারভেটিভ পার্টির সাথে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে হয়েছেন মন্ত্রীও।
এবার ২০২২ সালে এসে হয়েছেন কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনের আগে তিনি যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। এখন দেখার অপেক্ষা তিনি তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞাকে কীভাবে ব্যবহার করেন। তাছাড়া সামনে তার জন্য অপেক্ষা করছে যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচন। এটিও হবে তার জন্য বড় একটি পরীক্ষা।























