বাংলাদেশে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে অগ্রগতি এবং চীনের কাছ থেকে জে-১০ জঙ্গিবিমান কেনার আলোচনার দিকে ভারত ‘নিবিড়ভাবে’ নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখাপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
বার্তা সংস্থা এএনআই-এর খবরে বলা হয়, শুক্রবার ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সওয়াল বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
গবেষণার জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ: ইউজিসি
তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও চীনের সঙ্গে করিডোর বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং নিয়মিত আলোচনার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে, যা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। তিস্তা নদী প্রকল্প নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এরইমধ্যে বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে। তিস্তা ইস্যুটির সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে আমরা এর সঙ্গে সম্পর্কিত সব ধরনের অগ্রগতি ও ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায় রাখব।
ভারত থেকে প্রবাহিত তিস্তা এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চীন সম্মত হওয়ার মধ্যে এই মন্তব্য এল।
গত সপ্তাহে চীন সফরকালে তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে জাতীয় অগ্রাধিকার বর্ণনা করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে কোনো মূল্যে এটি বাস্তবায়ন করা হবে বলেছিলেন।
এর মধ্যে চীনের সহযোগিতায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশের এই ‘অগ্রগতি’ ভারতের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় বলে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে চীনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের এই সহযোগিতা কোনো তৃতীয় দেশকে লক্ষ্য করে নয়।
চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক সর্বোচ্চ পর্যায়ে এগিয়ে নেওয়ার যাত্রায় কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা খাতে সমন্বয় সাধনের জন্য নতুন ‘প্ল্যাটফর্ম’ গঠনের আলোচনা চলার কথাও বৃহস্পতিবার বলেছেন ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে মিলে অর্থনৈতিক করিডোর করার বিষয়ে চীনের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারতসহ অন্যদেরও এখানে যুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে।
এদিকে বাংলাদেশ চীন থেকে জে-১০ জঙ্গিবিমান কেনার কথা বিবেচনা করছে; সে বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া জানতে চান এক সাংবাদিক। জবাবে জয়সওয়াল বলেন, আমরা আমাদের প্রতিবেশী অঞ্চল ও দেশের এই ধরনের সব ঘটনা বা অগ্রগতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করি।
এর আগেও মুখপাত্র জয়সওয়াল তিস্তা প্রশ্নে বলেছিলেন, এই ধরনের বিষয়গুলো ঢাকার সঙ্গে ‘কাঠামোগত দ্বিপাক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে’ নিয়মিত বিরতিতে সমাধান করা হচ্ছে।
ফারাক্কা ব্যারেজে শুষ্ক মৌসুমে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পানি বণ্টন নিয়ন্ত্রিত হয় ১৯৯৬ সালে সম্পাদিত গঙ্গা পানি চুক্তির মাধ্যমে। শুষ্ক মৌসুমে ভারত পর্যাপ্ত পানি না ছাড়ায় বাংলাদেশের ভাটি অঞ্চলের কৃষি ও মানুষের জীবিকা দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগ পানির পাওয়ার পরিমান হ্রাসের এই ‘বিবাদ’ আরও তীব্র করে তুলেছে।
এএনআইর খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ তিস্তার পানির ন্যায্য অংশ দাবি করে আসছে কিন্তু ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরোধিতার কারণে এই চুক্তিটি এখনো ঝুলে রয়েছে। ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় এই বিরোধ নিষ্পত্তির একটি চেষ্টা করা হয়েছিল।
প্রস্তাবিত চুক্তিটির লক্ষ্য ছিল তিস্তার পানি প্রবাহের ৩৭.৫ শতাংশ বাংলাদেশকে এবং ৪২.৫ শতাংশ ভারতের জন্য রাখা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার এর বিরোধিতা করে যুক্তি দিয়েছিল, এই চুক্তি হলে তাদের কৃষি স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন জয়সওয়াল। ‘আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে’ পাকিস্তানের সমর্থনের কারণে সিন্ধু পানি চুক্তি ভারত ‘স্থগিত’ রেখেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জয়সওয়াল বলেন, সিন্ধু নদ পানি চুক্তির বিষয়ে ভারতের অবস্থান সবসময় একই রকম রয়েছে। পাকিস্তানকে অবশ্যই আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের প্রতি তাদের সমর্থন পরিবর্তন করতে হবে।
বাংলাদেশে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে অগ্রগতি এবং চীনের কাছ থেকে জে-১০ জঙ্গিবিমান কেনার আলোচনার দিকে ভারত ‘নিবিড়ভাবে’নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখাপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
বার্তা সংস্থা এএনআই-এর খবরে বলা হয়, শুক্রবার ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সওয়াল বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও চীনের সঙ্গে করিডোর বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং নিয়মিত আলোচনার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে, যা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। তিস্তা নদী প্রকল্প নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এরইমধ্যে বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে। তিস্তা ইস্যুটির সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে আমরা এর সঙ্গে সম্পর্কিত সব ধরনের অগ্রগতি ও ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায় রাখব।
ভারত থেকে প্রবাহিত তিস্তা এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চীন সম্মত হওয়ার মধ্যে এই মন্তব্য এল। গত সপ্তাহে চীন সফরকালে তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে জাতীয় অগ্রাধিকার বর্ণনা করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে কোনো মূল্যে এটি বাস্তবায়ন করা হবে বলেছিলেন।
এর মধ্যে চীনের সহযোগিতায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশের এই ‘অগ্রগতি’ভারতের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় বলে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে চীনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের এই সহযোগিতা কোনো তৃতীয় দেশকে লক্ষ্য করে নয়।
চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক সর্বোচ্চ পর্যায়ে এগিয়ে নেওয়ার যাত্রায় কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা খাতে সমন্বয় সাধনের জন্য নতুন ‘প্ল্যাটফর্ম’গঠনের আলোচনা চলার কথাও বৃহস্পতিবার বলেছেন ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে মিলে অর্থনৈতিক করিডোর করার বিষয়ে চীনের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারতসহ অন্যদেরও এখানে যুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে।
এদিকে বাংলাদেশ চীন থেকে জে-১০ জঙ্গিবিমান কেনার কথা বিবেচনা করছে; সে বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া জানতে চান এক সাংবাদিক। জবাবে জয়সওয়াল বলেন, আমরা আমাদের প্রতিবেশী অঞ্চল ও দেশের এই ধরনের সব ঘটনা বা অগ্রগতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করি।
এর আগেও মুখপাত্র জয়সওয়াল তিস্তা প্রশ্নে বলেছিলেন, এই ধরনের বিষয়গুলো ঢাকার সঙ্গে ‘কাঠামোগত দ্বিপাক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে’ নিয়মিত বিরতিতে সমাধান করা হচ্ছে।
ফারাক্কা ব্যারেজে শুষ্ক মৌসুমে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পানি বণ্টন নিয়ন্ত্রিত হয় ১৯৯৬ সালে সম্পাদিত গঙ্গা পানি চুক্তির মাধ্যমে। শুষ্ক মৌসুমে ভারত পর্যাপ্ত পানি না ছাড়ায় বাংলাদেশের ভাটি অঞ্চলের কৃষি ও মানুষের জীবিকা দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগ পানির পাওয়ার পরিমান হ্রাসের এই ‘বিবাদ’ আরও তীব্র করে তুলেছে।
এএনআইর খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ তিস্তার পানির ন্যায্য অংশ দাবি করে আসছে কিন্তু ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরোধিতার কারণে এই চুক্তিটি এখনো ঝুলে রয়েছে। ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় এই বিরোধ নিষ্পত্তির একটি চেষ্টা করা হয়েছিল।
প্রস্তাবিত চুক্তিটির লক্ষ্য ছিল তিস্তার পানি প্রবাহের ৩৭.৫ শতাংশ বাংলাদেশকে এবং ৪২.৫ শতাংশ ভারতের জন্য রাখা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার এর বিরোধিতা করে যুক্তি দিয়েছিল, এই চুক্তি হলে তাদের কৃষি স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন জয়সওয়াল। ‘ন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে’পাকিস্তানের সমর্থনের কারণে সিন্ধু পানি চুক্তি ভারত ‘স্থগিত’ রেখেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জয়সওয়াল বলেন, সিন্ধু নদ পানি চুক্তির বিষয়ে ভারতের অবস্থান সবসময় একই রকম রয়েছে। পাকিস্তানকে অবশ্যই আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের প্রতি তাদের সমর্থন পরিবর্তন করতে হবে।




































