ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণকে সামনে রেখে টানা কয়েক সপ্তাহের নির্বাচনি প্রচার শেষ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ১৬টি জেলার মোট ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে, যাকে অনেকেই ‘যুদ্ধপ্রস্তুতি’ বলে অভিহিত করছেন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, দিল্লি থেকে ২ লাখ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা হয়েছে ভোটের জন্য।
ভোটকেন্দ্রের গেটে যতজন ভোটার লাইনে থাকবেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে তাদের হাতে স্লিপ তুলে দেবেন প্রিসাইডিং অফিসার—এটাই এবারের ভোটের নিয়ম।
তাছাড়া, এবার মোবাইল ফোন নিয়েও ভোট দিতে যাওয়া যাবে না। আর সেই সমস্যা সমাধানে প্রথমবারের মতো বুথের সামনে মোবাইল কাউন্টার করবে কমিশন। সেখানে মোবাইল রেখে ভোট দিতে যেতে পারবেন ভোটাররা।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সব বুথেই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তারা ভোটারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে। পাশাপাশি ভোট যাতে শান্তিপূর্ণ হয়, সেটিও নিশ্চিত করা হবে।
রাজ্যের অর্ধেকের বেশি আসনে এই ভোটে মূল দুই প্রতিপক্ষ তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টি—উভয়েই চাইবে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে। তবে এই দুই দলের পাশাপাশি কংগ্রেস, সিপিআইএম, আইএসএফ এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রথম দফার এই নির্বাচনে ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ভোটার।
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার টানা চতুর্থবারের জন্য জয়লাভের লক্ষ্যে প্রচার চালিয়েছেন। তবে ভোটে যদি বিজেপি জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তবে তা হবে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম হিন্দুত্ববাদী আদর্শের সরকার।
এমন হলে তা রাজ্যের রাজনীতিতে একটি বড় মোড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হবে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস আবার জয়ী হলে তাদের শাসন অব্যাহত থাকবে।
বিভিন্ন জনমত জরিপে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। এবারের নির্বাচনে মাত্র কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানেই ফল পাল্টে যেতে পারে।
কারণ, এই বিধানসভা নির্বাচনের আগে ১৫২টি আসনে কেবল বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই নয়, বরং বহুমুখী সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
২০২১ সালের নির্বাচনে ৫৭টি আসনে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছিল মাত্র ৮,০০০ ভোটের ব্যবধানে। এবারও সবার নজর সেই আসনগুলোর দিকে। এখানে সামান্য ভোটের পরিবর্তনই বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
অল্প ব্যবধানের ৫৭টি আসনের মধ্যে ৪৭টিই দক্ষিণবঙ্গে, আর উত্তরবঙ্গে রয়েছে ১০টি। দক্ষিণবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
তাই বিজেপি সেখানে আরও বেশি তৎপরতা চালিয়েছে। ক্ষমতা ধরে রাখার পাশাপাশি কম ব্যবধানের আসনগুলোতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখাটা এবার তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
আবার কংগ্রেসও বিজেপিবিরোধী কিছু ভোট নিজেদের দিকে টানতে পারে, যা তৃণমূলের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
তাছাড়া, নির্বাচনের আগে হুমায়ুন কবীরের ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ এবং আসাউদ্দিন ওয়াইসি-এর এআইএমআইএম-এর জোটে ভাঙন তৃণমূলের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিও দেখার বিষয়।
যে আসনগুলোতে জয়-পরাজয় কয়েক হাজার ভোটে নির্ধারিত হয়, সেখানে এই ধরনের ছোট পরিবর্তনও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় আরও ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আর ৪ মে ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।






























