প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানে সামরিক হামলা বন্ধ করতে পারে, আর তেহরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি না হলেও সেটা হতে পারে।
রয়টার্স লিখেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এখন পঞ্চম সপ্তাহে গড়ানো ইরান যুদ্ধ কীভাবে শেষ হতে পারে তা নিয়ে ওয়াশিংটনের পরিবর্তনশীল ও কখনো কখনো পরস্পরবিরোধী বক্তব্যকে তুলে ধরেছে।
ট্রাম্প মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমরা খুব শিগগিরই ছেড়ে আসছি, দুই সপ্তাহের মধ্যে, হয়তো দুই সপ্তাহের মধ্যে, হয়তো তিন।”
‘এপিক ফিউরি’ নামের এই সামরিক অভিযান শেষ করতে ইরানের সঙ্গে ‘সফল কূটনীতি’ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি পূবর্শর্ত কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “তা নয়।”
তিনি বলেন, “ইরানকে কোনো চুক্তি করতে হবে না, না। না, আমার সঙ্গে তাদের কোনো চুক্তি করতে হবে না।”
পরে হোয়াইট হাউজ জানায়, ‘ইরান বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট জানাতে’ বুধবার ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় রাত ৯টায় ট্রাম্প জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।
এর আগে যুদ্ধবিরতির জন্য ইরানকে ১৫ শর্তের একটি প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান এই প্রস্তাবগুলো না মানলে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার হুমকি দিয়েছিল ওয়াশিংটন। এসব প্রস্তাবের মধ্যে প্রধান দাবিগুলো ছিল, ইরানকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর চেষ্টা করবে না, সব ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে হবে।
মঙ্গলবার এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, এই যুদ্ধ বন্ধ করতে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে চান। এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হচ্ছে, এটি পুরো অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, এর কারণে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে আর বৈশ্বিক অর্থনীতিকে চরম বিপর্যর্য়ের মুখে ঠেলে দেওয়ার হুমকি সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার রাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের সাহায্য করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই পদক্ষেপের জন্য আরব আমিরাত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাব চাইছে আর যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত দ্বীপগুলো দখল করার পরামর্শ দিয়েছে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি মঙ্গলবার জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের কাছ থেকে সরাসরি বার্তা পাচ্ছেন আর সেগুলো ‘আলোচনা’ নয়; তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে আল জাজিরা টেলিভিশন।
এই বার্তাগুলোর মধ্যে হুমকি অথবা ‘বন্ধুদের’ মাধ্যমে আদানপ্রদান করা মতামত রয়েছে বলে জানিয়েছেন আরাকচি।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড মঙ্গলবার উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর বুধবার থেকে হামলা শুরু করার হুমকি দিয়েছে। তারা মাইক্রোসফট, গুগল, অ্যাপেল, ইন্টেল, আইবিএম, টেসলা ও বোয়িংসহ ১৮টি মার্কিন কোম্পানির তালিকা দিয়ে বলেছে, বুধবার তেহরানের স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে এ হামলা শুরু হবে।
এই মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর হামলার হুমকিতে তিনি উদ্বিগ্ন কি না, এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “না”।
তেল ও জ্বালানির বাড়তি মূল্যে মার্কিন পরিবারগুলোর আর্থিক অবস্থার ওপর চাপ পড়া শুরু হয়েছে আর এটি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান পার্টির জন্য একটি উদ্বেগের বিষয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও জরিপ সংস্থা ইপসোসের এক যৌথ জরিপে দেখা গেছে, দুই তৃতীয়াংশ আমেরিকান মনে করে ইরান যুদ্ধ থেকে দ্রুত বের হয়ে আসতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
গত এক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলা সত্ত্বেও ইরান অনমননীয় অবস্থান ধরে রেখে ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে ধারাবাহিক পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স, আল–জাজিরা



































