• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৬ জুলাই, ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১, ১৯ মুহররম ১৪৪৫

ইউক্রেনের বুচায় ‘গণহত্যার’ নিন্দায় বিশ্বনেতারা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০২২, ০৪:০৫ পিএম
ইউক্রেনের বুচায় ‘গণহত্যার’ নিন্দায় বিশ্বনেতারা
ছবি : আল-জাজিরা

ইউক্রেনে বুচা শহরে চার শতাধিক বেসামরিক নাগরিকের মরদেহ পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ তদন্ত করতে গিয়ে কিয়েভ কর্তৃপক্ষ এসব মরদেহের সন্ধান পেয়েছে। এই অভিযোগ ওঠার পর জাতিসংঘসহ বিশ্বনেতারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছেন।

ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, দেশের রাজধানী কিয়েভের কাছে এসব হত্যা সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে বুচা, ইরপিন ও হসটোমেল শহরে বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বরাতে আল-জাজিরা বলছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ‘হত্যাযজ্ঞ, নৃশংস অত্যাচার ও ধর্ষণ’ চালাচ্ছে। তারা ‘গণহত্যা’ সংঘটিত করছে বলেও অভিযোগ করেন জেলেনস্কি।

এই নৃশংসতার প্রতিবাদে ইউরোপের অনেক দেশ রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা চায়। অনেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) মাধ্যমে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত দাবি করেছে।

বুচা শহরে বেসামরিক নাগরিকদের ‘গণহত্যা’ দেখে গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, “ঠিক জবাবদিহির জন্য একটি স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।”

শনিবার কিয়েভের আশপাশের এলাকা থেকে রাশিয়ার সেনা প্রত্যাহার করা হয়। কিয়েভের পার্শ্ববর্তী বুচা শহরের মেয়র বলেছেন, চেচেন যোদ্ধারা এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করার সময় রাশিয়ান বাহিনীর হাতে ৩০০ জন বাসিন্দা নিহত হয়েছেন।

তবে বুচায় বেসামরিক লোকদের হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া। মস্কো বলেছে, সেখানকার কোনো বাসিন্দাই রাশিয়ান বাহিনীর সহিংসতার শিকার হয়নি। উল্টো এ বিষয়ে কিয়েভকে দোষারোপ করেছে মস্কো। রাশিয়ার দাবি, পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম ব্যবহার করে উসকানিমূলক সংবাদ ছড়াচ্ছে ইউক্রেন।

রুশ সামরিক বাহিনীর নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্টের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকন জানান, বুচা শহরের যে চিত্র দেখা গেছে তাতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ তদন্তে সহায়তা করবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে জবাবদিহির প্রয়োজন আছে। কিন্তু গুরত্বপূর্ণ বিষয় হল আমরা চুপ করে থাকতে পারি না। আমরা এটাকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারি না। বুচা শহরে রুশ বাহিনী প্রতিদিন যে নৃশংসতা চালিয়েছে, এটা সত্য।”

ন্যাটো মহাসচিব জেন্স স্টোলটেনবার্গ বলেন, “বুচা শহরের যে চিত্র পাওয়া গেছে কয়েক যুগের মধ্যে ইউরোপে এমন নৃশংসতা ঘটেনি।”

সিএনএনকে তিনি বলেন, “বেসমারিক লোকদের লক্ষ্য করে হত্যা করা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। এটার জন্য অবশ্যই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দায়ী।”

ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল বলেছেন, “স্বাধীন অঞ্চল কিয়েভে রুশ বাহিনীর এমন হত্যাযজ্ঞ অগ্রহণযোগ্য। আন্তর্জাতিক আদালতে এ হত্যাযজ্ঞের উপাদান তুলে ধরতে ইউক্রেন ও এনজিওগুলোকে সহায়তা করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।”

ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর নৃশংসতা দেখে চমকে উঠেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান জোসেপ বোরেল। তিনি বলেন, “যুদ্ধাপরাধ তদন্তে ইউক্রেনকে আমরা সহয়তা চালিয়ে যাব।”

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন অভিযোগ করেন, কিয়েভে রুশ বাহিনীর হামলার লক্ষ্য ছিল বেসমারিক লোকজন। তিনি বলেন, “যেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তার সেনাবাহিনী যুদ্ধাপরাধ ঘটিয়েছে।”

রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলতজ। তিনি বলেন, “রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তার সহপাঠীরা অবশ্যই এর ফল পাবে। জার্মানি ইউক্রেনের জন্য আরও অস্ত্র তৈরি করবে। যাতে তারা রুশ বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়।”

বুচা শহরের চিত্র দেখে ইউক্রেনের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। তিনি বলেন, “এ হত্যাযজ্ঞের বিষয়ে রাশিয়ান কর্তৃপক্ষের জবাব দিতে হবে। এটা অগ্রহণযোগ্য।”

ইউক্রেনে আরও অস্ত্র সরবহারের জন্য পশ্চিমাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ জুজা। তিনি বলেন, “প্রতিরোধী ইউক্রেনীয়দের জন্য অস্ত্র প্রয়োজন।”

ইউক্রেনে ‘জঘন্য’ হত্যাযজ্ঞের জন্য রুশ বাহিনীকে জবাব দিতে হবে জানান কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তিনি বলেন, “ইউক্রেনে বেসামরিক লোকদের হত্যায় আমরা শোক প্রকাশ করছি।”

শনিবার কিয়েভের আশপাশের এলাকা থেকে রাশিয়ার সেনা প্রত্যাহার করা হয়। কিয়েভের পার্শ্ববর্তী বুচা শহরের মেয়র বলেছেন, চেচেন যোদ্ধারা এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করার সময় রাশিয়ান বাহিনীর হাতে ৩০০ জন বাসিন্দা নিহত হয়েছেন।

তবে বুচায় বেসামরিক লোকদের হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া। মস্কো বলেছে, সেখানকার কোনো বাসিন্দাই রাশিয়ান বাহিনীর সহিংসতার শিকার হয়নি। উল্টো এ বিষয়ে কিয়েভকে দোষারোপ করেছে মস্কো।

রাশিয়ার দাবি, পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম ব্যবহার করে উসকানিমূলক সংবাদ ছড়াচ্ছে ইউক্রেন।

Link copied!