করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে টিকা কার্যক্রম চলছে বিশ্বজুড়ে। করোনা টিকা গ্রহণে শতভাগ সুরক্ষা না পেলেও ভয়ংকর সংক্রমণ থেকে রেহাই পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে টিকা গ্রহণে কিছু শর্তও জুড়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে যাদের অ্যালার্জির সমস্যার রয়েছে, তাদের ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে টিকা দিতে বলা হয়েছে।
অনেকেই না বুঝে সুযোগ পেয়েই টিকা নিয়ে নিচ্ছেন। অ্যালার্জি আছে কি নেই, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখার সময় নিচ্ছেন না। ফলাফলে টিকা গ্রহণের পরই শরীরের বিভিন্ন অংশে অ্যালার্জি দেখা দিচ্ছে। টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় এটি চরম আকার ধারণ করেছে।
ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে জানায়, কিছু মানুষের শরীরে সম্প্রতি শিংলস নামে একধরনের অ্যালার্জির খোঁজ মিলেছে। শিংল বা হারপিস জোস্টার (এইচজেড), একটি ভাইরাল সংক্রমণ, যা বেদনাদায়ক ফুসকুরি সৃষ্টি করে। করোনা টিকা দেওয়ার পর মানুষের শরীরে এই ধরনের অ্যালার্জির দেখা মিলছে বলে জানা গেছে।
ভারতের মুম্বাইয়ের ভাটিয়া হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সৌরভ শাহ জানান, করোনা টিকাগ্রহণের পর ৪ থেকে ৫ মাসের বিরতিতে শিংলস সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। গত এক মাসে ১০ জনের শরীরে এর সংক্রমণ লক্ষ্য করা গেছে। গত বছরও টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার শীর্ষে ছিল এই অ্যালার্জি সমস্যা।
তিনি আরও জানান, আগে চর্মরোগ সাধারণত ডায়াবেটিস রোগীদের এবং ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু এবং টাইফয়েডে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে দেখা যেত, যা এখন অন্যদের ছড়িয়ে পড়েছে।
অ্যালার্জির রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে চিকিৎসকরা বলছেন, করোনা সংক্রমণ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়। ছোটবেলায় অনেকেই চিকেন পক্সের টিকা নেন। সেখান থেকেই ভাইরাসটি ডোরসাল রুট গ্যাংলিয়নে সুপ্ত আকারে থাকে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে, এটি সক্রিয় হয় এবং ত্বকে ফুসকুড়ি সৃষ্টি করে। সংশ্লিষ্ট ত্বককে প্রভাবিত করে। ত্বকের ভেতরের অংশে জ্বালা অনুভব হয়।
এদিকে শ্রী বালাজি অ্যাকশন মেডিক্যাল ইনস্টিটিউটের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. নিপুন জৈন জানান, ভ্যাকসিন এবং শিংলস-এর মধ্যে কোনও সুস্পষ্ট সম্পর্ক নেই।
শরীরের কোন অংশে এই ধরনের অ্যালার্জি বেশি হয়, এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বেদনাদায়ক এই ফুসকুড়ি মুখ, চোখ, বুকের মাঝে এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোতে হতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে গেলে এটি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রকট হয়। শিশুদেরও প্রভাবিত করতে পারে।’
করোনা টিকা ও শিংলস অ্যালার্জির মধ্যে কোনো সংযোগ রয়েছে কি না, এ বিষয়ে গবেষনা করেছেন তুরস্কে ৬৮ বছর বয়সী এক গবেষক। ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টাল ভ্যাকসিন রিসার্চে প্রকাশিত হয় তার গবেষণাপত্রটি।
গবেষণাপত্রে বলা হয়, করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজের ৫ দিন পর তিনি তার বুকের ডান দিক থেকে ব্যথা অনুভব করেছেন। তিনি শারীরিক পরীক্ষা করে দেখেছেন, ভ্যাকসিন গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে T3–T5 ডার্মাটোমের সংশ্লিষ্ট একাধিক পিনহেড ভেসিকুলার ক্ষত প্রকাশ পায়। ভ্যাকসিন কোষমধ্যস্থ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে। এটি এইচজেডের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
এই অ্যালার্জি প্রতিরোধে সঠিক কোনও চিকিৎসা বা ওষুধ সম্পর্কে এখনও জানান নি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তবে যারা ক্যানসার এবং ডায়াবেটিস বা অন্যান্য রোগে ভুগছেন তাদের এই বিষয়ে যথেষ্ট পরিমাণে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর খাবার, পুষ্টি, শাকসবজি খেয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়াতে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত রোগীরা এই অ্যালার্জি থেকে এক বা দুই সপ্তাহের চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে যায়। কিন্তু এই অ্যালার্জির প্রভাবে সৃষ্ট ব্যথা ফুসকুড়ি নিরাময়ের পরেও কয়েক সপ্তাহ ধরে শরীরে থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদেল পরামর্শ, করোনা টিকা নেওয়ার আগে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশ ভালো তা নিশ্চিত করুন। পুষ্টিকর খাবার খেয়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং ঘুমের মাধ্যমে নিজের শরীর সুস্থ রাখুন। ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখুন। থাইরয়েড আয়ত্তে আনা প্রয়োজন। দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলোর চিকিৎসা করুন।








































