অভিনেত্রী নাজিফা তুষির সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হলো আরেকটি পালক। অভিনয়ের জন্য বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃতি পেলেন এবার। ‘রইদ’-এ অনবদ্য নৈপুণ্যের জন্য কানাডার মিসিসাগায় মোজাইক আন্তর্জাতিক সাউথ এশিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেত্রীর স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে তাকে। মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত সিনেমাটিতে তার অভিনয় দর্শককে চরিত্রটির ভেতরের টানাপড়েন, আবেগ ও অসহায়তার খুব কাছাকাছি নিয়ে যায়। তার অভিনয়ে ছিল সংযম, স্বতঃস্ফূর্ততা এবং গভীর আবেগের মেলবন্ধন। সংলাপের চেয়ে অনেক সময় তার চোখের ভাষা ও মুখের অভিব্যক্তিই চরিত্রটির অনুভূতি প্রকাশ করেছে শক্তিশালীভাবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সেরা অভিনেত্রীর স্বীকৃতি তাই তুষির এ পরিণত ও মেধাবী অভিনয়েরই যথার্থ মূল্যায়ন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে মোজাইক আন্তর্জাতিক সাউথ এশিয়ান চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত। আসরে ‘রইদ’ জিতেছে সেরা অভিনেত্রীসহ মোট তিনটি পুরস্কার। চিত্রগ্রহণ এবং সংগীত বিভাগেও সেরা হয়েছে এটি। উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের স্বীকৃতি পেয়েছে নেপালের ‘এলিফ্যান্টস ইন দ্য ফগ’। এটি নির্মাণের জন্য সেরা পরিচালক হয়েছেন অবিনাশ বিক্রম শাহ। সেরা সম্পাদনা স্বীকৃতিও পেয়েছে এ চলচ্চিত্র। ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে জুরি প্রাইজ জিতেছে এটি। ‘রেহমত’ চলচ্চিত্রের জন্য সেরা পারফরমার হয়েছেন ভারতীয় অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ।
মোজাইক আন্তর্জাতিক সাউথ এশিয়ান চলচ্চিত্র উৎসব কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজয়ী চলচ্চিত্র, নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও শিল্পীদের অভিনন্দন জানিয়েছে। তারা লিখেছেন, ‘নিজেদের সৃষ্টিকর্ম আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সব নির্মাতা ও শিল্পীকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। আপনাদের গল্প, অভিনয় ও নির্মাণশৈলীই এবারের উৎসবকে বিশেষ ও স্মরণীয় করে তুলেছে।’
এদিকে স্পেনের বার্সেলোনায় কাসা এশিয়া ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অফিসিয়াল সিলেকশন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ‘রইদ’। গতকাল নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই তথ্য জানান। এর আগেও আন্তর্জাতিক কয়েকটি উৎসবে প্রশংসিত হয়েছে এটি। ৫৫তম ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডামে টাইগার কম্পিটিশন বিভাগে নির্বাচিত হয়ে বৈশ্বিক যাত্রা শুরু করে ‘রইদ’। এরপর সিয়াটল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এর প্রদর্শনী হয়। সম্প্রতি ভিয়েতনামে চতুর্থ দা নং এশীয় চলচ্চিত্র উৎসবে সমালোচক বিভাগে সেরা এশীয় চলচ্চিত্রের পুরস্কার অর্জন করে ‘রইদ’। ৯৯তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম বিভাগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে বঙ্গ ও ফেসকার্ড প্রযোজিত সিনেমাটি। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে চিত্রায়িত চলচ্চিত্রটির গল্প দরিদ্র বর্গাচাষি সাদু এবং তার স্ত্রীকে ঘিরে। নববিবাহিত দম্পতির জীবন, গ্রামীণ সমাজ, রহস্য এবং বাস্তবতা ও মিথের মিথস্ক্রিয়া এক জাদুবাস্তবতার আবহে উঠে এসেছে এতে। এর চিত্রনাট্য লিখেছেন সিদ্দিক আহমেদ, মেজবাউর রহমান সুমন, জাহিন ফারুক আমিন ও সুকর্ণ শাহেদ ধীমান।
চলচ্চিত্র পরিচালনায় ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার পাচ্ছেন মেজবাউর রহমান সুমন। ২৬ অক্টোবর ফজলুল হকের প্রয়াণ দিবসে চ্যানেল আই স্টুডিওতে তার হাতে এ স্বীকৃতি তুলে দেওয়া হবে। চলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় পুরস্কারটি পাচ্ছেন মাহমুদা চৌধুরী। তারা পাবেন পুরস্কারের অর্থমূল্য, সম্মাননাপত্র ও ক্রেস্ট। দেশের প্রথম চলচ্চিত্রবিষয়ক পত্রিকা ‘সিনেমা’র সম্পাদক ও দেশের প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘প্রেসিডেন্ট’-এর নির্মাতা প্রয়াত ফজলুল হক স্মরণে ২০০৪ সাল থেকে প্রতি বছরই দুজনকে এ পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন এটি প্রবর্তন করেন।












