আর্থিক সহায়তা চান চাঁদপুরের জেলেরা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম
আর্থিক সহায়তা চান চাঁদপুরের জেলেরা

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ ধরেই জীবিকা চলে হাজারো জেলে পরিবারের। নদীতে মাছ ধরা তাদের পেশা, আবার নেশাও। কিন্তু চলতি মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় এমনিতেই সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এর মধ্যে ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলেরা।

চাঁদপুর সদরের পুরানবাজার রনাগোয়াল এলাকার মেঘনাপাড়ের জেলে লিটন বলছিলেন, ‘নদীতে মাছ ধরি, এটি আমাদের পেশা ও নেশা। কিন্তু নদীতে যে ইলিশ পাই, তা দিয়ে সংসার চলে না। এখন ২২ দিন নদীতে নামতে পারব না। এ সময়টি আমাদের অনেক কষ্টে কাটাতে হবে। কিস্তির ঋণ নিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। সরকার যে চাল দেয়, তা দিয়ে সংসার চলে না। চালের পাশাপাশি আর্থিক সহযোগিতা করলে আমাদের অনেক উপকার হতো।’

একই এলাকার জেলে রিপন হোসেনের ভাষ্য, ‘আমরা চাই নদীতে অভিযান ঠিকমতো হোক। তবে নিষেধাজ্ঞার সময়ে আমাদের ২৫ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক সময় ২০ কেজি করে পাই। সংসার তো শুধু চাল দিয়ে চলে না, অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসও লাগে। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ, চালের পাশাপাশি আমাদের আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হোক।


ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আজ ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনাসহ দেশের সব নদনদীতে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকার পাশাপাশি ইলিশ পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে। চাঁদপুরের মতলব উত্তর থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদী এলাকাও এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও মৎস্য বিভাগ সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করবে। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা রয়েছে।

জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান জানালেন, ইলিশের অভয়াশ্রম রক্ষায় জেলা টাস্কফোর্সের মাধ্যমে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের স্বস্তি দিতে এনজিওর ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি বরাদ্দ পাওয়া গেলে ২৫ কেজি চালের খাদ্য সহায়তার সঙ্গে জেলেদের আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ ধরলে এক থেকে দুই বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। ইলিশের প্রজনন রক্ষায় ২০০৬ সাল থেকে সরকার এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে।

Link copied!