• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১, ৬ শাওয়াল ১৪৪৫

নওগাঁয় আলুর দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক


নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৪, ০৫:২৯ পিএম
নওগাঁয় আলুর দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
ক্ষেত থেকে আলু তুলছেন কৃষকরা। ছবি : প্রতিনিধি

আলুর দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন নওগাঁর কৃষকরা। প্রথম দিকে আলুর ভালো দাম পেলেও বর্তমানে বাজার ভালো নয় বলে জানিয়েছেন তারা। কৃষকদের দাবি বর্তমান বাজারমূল্যে আলু বিক্রি করে উৎপাদন খরচও উঠছে না।

জেলার নেয়ামতপুর, মান্দার বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আলুর ভালো চাহিদা ও দাম থাকায় লাভের আশায় আলু চাষে ঝুঁকেছিলেন কৃষকরা। কিন্তু যখন ক্ষেত থেকে আলু উত্তোলন শুরু হবে, এমন সময় ভারত থেকে আলু আমদানি করায় দেশি আলুর দাম কমে যায়। এতে লোকসানের মুখে পড়েন কৃষকরা।

কৃষক সজল মোল্লা বলেন, “এবার বাজারে আলুর দাম উঠেছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। সেই হিসাব করে আমরা আশা করেছিলাম আলু আবাদ করে ভালো দাম পেলে লাভবান হতে পারব। যে কারণে আগের বছরের তুলনায় এবার বীজ, সারসহ অন্যান্য খরচ কিছুটা বেশি হলেও আলু আবাদ করেছিলাম। শুরুর দিকে আবহাওয়া ভালো থাকায় আলুর গাছও ভালো হয়েছিল। কিন্তু মাঝে এমন শীত আর কুয়াশা পড়ল, এতে করে গাছে পচন ধরে অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকবার ওষুধ স্প্রে করে সেই আলুর গাছ রক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও আলুর ফলন ব্যাহত হয়েছে। গতবার এক বিঘা জমিতে ১০০ মন আলুর ফলন হলেও এবারে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ৫০ থেকে ৬০ মনের বেশি হচ্ছে না।”

সজল মোল্লা আরও বলেন, এরপরও বাজারে আলুর ভালো দাম থাকায় আমরা লাভের আশা করছিলাম। কিন্তু ঠিক যে সময় জমি থেকে আলু উঠতে শুরু করবে, এমন সময় সরকার আলু আমদানির অনুমতি দিয়েছে। এতে করে আলুর বাজার ২ হাজার টাকা মন থেকে কমে নেমে এসেছে ৬০০ টাকায়। এবারে এক বিঘা জমিতে আলু আবাদ করতে ৪০-৪৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে যে আলুর দাম তাতে করে লাভ তো দূরে থাক, উৎপাদন খরচ উঠবে কিনা জানি না।”

মান্দা উপজেলার পরানপুর গ্রামের কৃষক এম এ রাজ্জাক বলেন, “এবার লাভের আশায় আলু আবাদ করেছিলাম। কিন্তু সেই আশায় তো আমাদের গুড়ে বালির মতো অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারত থেকে আলু আমদানির ফলে দাম কমে এসেছে। বর্তমানে ৬৫০-৭০০ টাকা মণ দরে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। যে হারে খরচ বেড়েছে, বিশেষ করে সার, বীজ, হালচাষ, এককথায় সবকিছুর দাম বেশি কিন্তু আলুর দাম কম। যার কারণে আলু চাষ করে এবার লাভ করা যাচ্ছে না।”

আরেক কৃষক রুবেল হোসেন বলেন, “এবারে আলুর ভালো দাম ও চাহিদার কথা মাথায় রেখে লাভের আশায় আলু আবাদ করেছিলাম। শীত ও কুয়াশার কারণে কয়েকবার পচন দেখা দিয়েছিল আলুগাছে। বেশ কয়েকবার বাড়তি খরচ করে ওষুধ ছিটিয়ে সেই পচন থেকে আলুগাছ রক্ষা করলাম। কিন্তু এখন আলুর দাম নেই, এই দামে তো আমাদের খরচ উঠছে না।”

আলু তোলার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক মমিন, মজনু, ভবেশসহ আরও কয়েকজন বলেন, “এই মাঠে জাহাঙ্গীর ভাই (কৃষক) আলু আবাদ করেছিলেন। সেই আলু এখন ক্ষেত থেকে তোলার কাজ করছি। কিন্তু এবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে অতিরিক্ত শীত ও কুয়াশার কারণে আলুর ফলন গতবারের চেয়ে অনেকটা কম হয়েছে। এর ওপর আলুর দাম না থাকায় মহাজন আমাদের যে মজুরি দেবেন, সেটা নিয়েই হিমশিম খাচ্ছে।”

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি উপপরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “চলতি এ মৌসুমে জেলার ১১টি উপজেলায় ১৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। শুরুর দিকে আবহাওয়া ভালো থাকলেও মাঝে তীব্র শীতের কারণে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। ইতোমধ্যেই আলু উত্তোলন শুরু হয়েছে। তবে পুরোপুরি এখনো শেষ হয়নি। বর্তমানে আবহাওয়া ভালো থাকায় আমরা আশা করছি কৃষকরা আলুর ভালো ফলন পাবেন। সেই সঙ্গে আলুর বাজারমূল্য ভালো থাকায় কৃষকরা লাভবান হবে বলে আমাদের আশা।” 

Link copied!