রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার মনিচত্বর এলাকায় সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেলের বাড়ি। সেখানেই আছে বাবার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান শিবগঞ্জ সুইটস। তার পাশেই একটি ছোট ওষুধের দোকানে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ডা. সুমাইয়ার চেম্বারের সামনে গিয়ে দেখা গেলো তিনি রোগী দেখছেন। দোকানের সামনে লম্বা লাইন। লাইনে অনেকেই দাঁড়িয়ে আছেন। সবাই এসেছেন এক টাকায় চিকিৎসা নিতে।
একটু এগোতেই দেখা মিললো ছোট একটি ওষুধের দোকানে তিনি বসে আছেন। পাশেই রাখা আছে দুই তিনটি প্লাস্টিকের টুল। সেখানে বসেই রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডাক্তারের টেবিলে এক পাশে রাখা আছে ছোট একটি মাটির ব্যাংক। সেই ব্যাংকেই চিকিৎসা শেষে রোগীরা ১ টাকা ফি দিয়ে যাচ্ছেন। সকাল থেকেই রোগী সামলাতে বেশ ব্যস্ত ডা. সুমাইয়া।
রাজশাহী নগরীর বাসিন্দা রেবেকা এসেছেন তার গাইনি সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে পরামর্শ নিতে। চিকিৎসা শেষে তিনি বলেন, “লোকমুখে শুনে আজকে এখানে এসেছি ডাক্তার দেখাতে। ম্যাডামের উদ্যোগটা আমার বেশ ভালো লেগেছে। আমি এসেছিলাম, চিকিৎসা নিয়েছি। আমি যেন বলতে পারি আমি গেছি। আরও পাঁচজন যাতে এখানে আসতে পারে। ওনার সেবাটা খুব ভালো।”
রাজশাহী সিটি কলেজের ছাত্র কাউসার বিন রিফাত বলেন, “আজকে সকালে ডাক্তার দেখিয়েছি। কালকে ফেসবুকে তার পোস্ট দেখে আজকে এসেছি। উনি ভালোভাবে দেখেছেন। আশা করছি তিনি আমাদের পাশে সারাজীবন থাকবেন।”
কলেজ ছাত্র মাহবুব মুরর্শেদ মিশু বলেন, “গতকাল ডাক্তারের কথা শুনে এখানে এসেছি। এই উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। তাছাড়া অমি স্টুডেন্ট মানুষ যেখানে কম টাকা হবে সেখানেই আমার জন্য ভালো।”
এ বিষয়ে ডা. সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেল বলেন, “গতকাল থেকেই শুরু করেছি। বেশ সাড়া পাচ্ছি। আমার বাবার জনসেবার স্বপ্ন ছিল। তিনি নিজেও কিছু করার চেষ্টা করেন। সারাজীবন দেখে এসেছি বাবা এমন করেন। বাবা এই এক টাকার চিকিৎসার লিফলেট ছাপিয়ে নিয়ে এসেছেন। এরপর সেটিকে আমি ফেসবুকে দিয়েছি।”



























