পরিত্যক্ত প্লাস্টিক জমা দিলেই মিলছে ব্যাগভর্তি বাজার


কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৬, ২০২৩, ০২:১৮ পিএম
পরিত্যক্ত প্লাস্টিক জমা দিলেই মিলছে ব্যাগভর্তি বাজার

কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিনে বাজারসাদাই করতে টাকা লাগছে না। পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের সামগ্রী জমা দিলেই মিলছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য উপকরণ।

শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) সকালে দ্বীপে দেখা যায়, সবার হাতে বস্তা। বৃদ্ধ থেকে শুরু করে নারী-শিশু সবাই ছুটছেন এই বস্তা নিয়ে। তবে বস্তার ভেতরে রয়েছে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল, চিপস ও জুসের প্যাকেট। বেড়াতে এসে সৈকতে বালিয়াড়িতে পর্যটকদের ফেলে দেওয়া এসব প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করেছেন দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের বাসিন্দারা। যা জমা দিয়ে বিনিময়ে বাজার করবেন তারা। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে সেখানে আর টাকার প্রয়োজন হবে না। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক জমা দিয়েই সেন্ট মার্টিনের অধিবাসীরা ব্যাগভর্তি বাজার বাসায় নিয়ে যেতে পারবেন। এক থেকে পাঁচ কেজি প্লাস্টিক জমা দিয়ে চাল, ডাল, তেল, মুরগি, ডিম, আটা, সুজি, কম্বল, শীতের কাপড় ও লুঙ্গি নিচ্ছেন দ্বীপবাসী।

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপটিকে প্লাস্টিকের দূষণ থেকে বাঁচাতে ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। যাতে সহযোগিতা করছে জেলা প্রশাসন। পর্যটক ও স্থানীয়দের ফেলা দেওয়া এসব প্লাস্টিক বর্জ্য দূষিত করছে সমুদ্রের প্রাণবৈচিত্র্যকে। অথচ এসব বর্জ্য অপসারণে নজর নেই কারও।

দ্বীপের বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “পর্যটকরা দ্বীপে প্লাস্টিকের বোতল, চিপস ও জুসের প্যাকেট সৈকতের বালিয়াড়িতে ফেলে দেয়। আর আমরা এসব পরিত্যক্ত প্লাস্টিকগুলো সংগ্রহ করে রাখি। এরই মধ্যে এক সপ্তাহে পাঁচ বস্তা প্লাস্টিক সংগ্রহ করেছি। এখন এসব প্লাস্টিক জমা দিয়ে ব্যাগভর্তি বাজার করে ঘরে নিয়ে যাব।”

দ্বীপের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা আয়েশা খাতুন বলেন, “১০ কেজি প্লাস্টিক জমা দেওয়ায় কাগজের ১০ টাকা দিয়েছে। তার মধ্যে ৫ টাকা দিয়ে একটি মুরগি, ১ টাকার চাল, ২ টাকার তেল, আর বাকি ২ টাকা দিয়ে ১ ডজন ডিম নিয়েছি। অনেক খুশি আমরা।”

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড সদস্য মো. জামাল উদ্দিন বলেন, সংগৃহীত প্লাস্টিক দ্বীপ থেকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে রিসাইকেল করা হয়। সংগৃহীত প্লাস্টিকের একটি অংশ দিয়ে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবীরা কক্সবাজারে তৈরি করেছেন বিশাল আকৃতির একটি ‘প্লাস্টিক দানব’। ধারণা করা হচ্ছে এই দানব এশিয়ার সমুদ্রসৈকতের সবচেয়ে বড় স্ট্যাচু। এই দানব তৈরির মাধ্যমেই বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন মানব সমাজকে একটি বার্তা দিতে চায় যে, প্লাস্টিকের ফলে পরিবেশ যে হারে দূষিত হচ্ছে তা ধীরে ধীরে দানবে রূপ নিচ্ছে। আর এই দানবই পরে মানবসমাজের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সুফিয়ান বলেন, সেন্ট মার্টিনসহ অন্যান্য দ্বীপ ও সমুদ্রসৈকতকে দূষণমুক্ত রাখতে জেলা প্রশাসন নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারপরও মানুষের অসচেতনতা ও অবহেলার কারণে সেটি পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করে ও তাদের সম্পৃক্ত করে যে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে তাতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে জেলা প্রশাসন।

প্রতি ১৫ দিন পর প্লাস্টিকের বিনিময়ে এসব পণ্য সরবরাহ করে বিদ্যানন্দ। যা শুরু হয় গত মাসে। এতে প্রতিবার ৮ থেকে ১০ টন প্লাস্টিক জমা দেন দ্বীপের মানুষ, যা ঢাকায় নিয়ে রিসাইকিলিং করে করা হয় ব্যবহার উপযোগী।

Link copied!