ভেঙে ফেলা হচ্ছে আলোচিত বিলাসবহুল বাড়ি ‘স্বর্ণকমল’। খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গার মজিদ সরণিতে অবস্থিত বাড়িটির মালিক ছিলেন খুলনার কুখ্যাত খুনি এরশাদ শিকদার।
‘স্বর্ণকমল’ একসময় জনসাধারণের খুব আগ্রহের একটি জায়গা ছিল। ওই সময়ে বাড়িটি আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেও ছিল।
বুধবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে শ্রমিকদের দোতলা বাড়িটির একাংশ ভাঙতে দেখা গেছে।
বাড়ি ভাঙার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, স্বর্ণকমলের অর্ধেক ভেঙে ফেলা হবে। যেখানে ১০ তলা ভবন করা হবে। এরশাদ শিকদারের ছেলেরাই ১০ তলা ভবন করবেন।
এরশাদ শিকদারের ছেলেমেয়েরা জানান, মজিদ সরণিতে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) ১০ কাঠা জমির ওপর তাদের একটি পুরোনো তিনতলা এবং আরেকটি দুইতলা বাড়ি ছিল। দুইতলা ভবনটির নামই মূলত ‘স্বর্ণকমল’। এখন দুইতলা ভবনটির অর্ধেকের মতো অংশ ভাঙা হচ্ছে।
এরশাদ শিকদারের মেজ ছেলে কামাল শিকদার জানান, ১০ কাঠা জমির মধ্যে ৫ কাঠা জমি তার বাবা এরশাদ শিকদারের নামে এবং ৫ কাঠা তার মা খোদেজা বেগমের নামে। তার মায়ের নামে যে অংশ মূলত সেই অংশের স্থাপনা অপসারণ করা হচ্ছে। ওই ৫ কাঠা জমির ওপর ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১০ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। যদি ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া যায়, তাহলে নিজেরাই ওই ৫ কাঠা জমির ওপর ১০ তলা ভবন নির্মাণ করবেন বলে পরিকল্পনা রয়েছে।
কামাল শিকদার আরও জানান, বাবার স্মৃতি হিসেবে মূল স্বর্ণকমল বাড়ির অর্ধেকের বেশি অংশ থাকবে। এখন ওই বাড়িতে তার ছোট ছেলে হেলাল শিকদার, হেলালের স্ত্রী ও এক ছেলে থাকে।
জানা যায়, এই বাড়িটি নির্মাণের জন্য সে সময় বিদেশ থেকে আনা হয়েছিল সব ধরনের সামগ্রী। নকশা হেরফের হওয়ার কারণে জীবন দিতে হয়েছিল রাজমিস্ত্রির।
ভবনটির প্রবেশদ্বারে সোনালি প্লেটের ওপর লেখা ছিল ‘স্বর্ণকমল’। কথিত আছে, বাড়িটি বানানোর সময় এরশাদ শিকদারের হাতে খুন হন নির্মাতা। বাড়ি নির্মাণের গোপন বিষয়গুলো যাতে কেউ জানতে না পারেন, সে জন্য তাকে হত্যা করা হয়। আবার কেউ কেউ বলে থাকেন, এ বাড়িটি নির্মাণের সময় কিছু অংশ অন্যের জমিতে ঢুকে যাওয়ায় নির্মাতাকে খুন করেন এরশাদ শিকদার।
এরশাদ শিকদার ছিনতাই, খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, চোরাচালানসহ নানান অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া দাদন ব্যবসা, সুদের ব্যবসা, জমি ক্রয় ও বিক্রয় কাজের মধ্য দিয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল।
এরশাদ শিকদারের বিরুদ্ধে একাধিক খুনের অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগে ২০০৪ সালের ১০ মে খুলনা জেলা কারাগারে এরশাদ শিকদারের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এরপর ক্রমেই জৌলুশ হারিয়েছে রহস্যে ঘেরা বাড়িটি।



































