ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং মোকাবিলায় প্রস্তুত উপকূলবাসী


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: অক্টোবর ২৪, ২০২২, ০৪:৫৪ পিএম
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং মোকাবিলায় প্রস্তুত উপকূলবাসী

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে উপকূলজুড়ে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। খুলনায় সাত ফুটের বেশি জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা করা হচ্ছে ও মানুষকে সতর্ক করতে চলছে মাইকিং। এদিকে ভোলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ফেনীতে ভারী ও গুড়িগুড়ি বৃষ্টিপাত, পটুয়াখালীতে প্রস্তুত ৭০৩ আশ্রয়কেন্দ্র এবং নোয়াখালীতে কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল ও প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৪০১টি আশ্রয়কেন্দ্র। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর।

উপকূলের সব মসজিদে মাইকিং

সিত্রাংয়ের প্রভাবে খুলনা উপকূলে সকাল থেকে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়েছে। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন দাকোপ-কয়রাসহ অন্যান্য উপজেলার মানুষ। উপকূলের মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে সকাল থেকে শুরু হয়েছে মাইকিং। জেলার ৪০৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে।

জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার সরকার জানান, দুপুর আড়াইটায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বর ০২৪-৭৭৭২৬৫৯২।

উপকূলীয় উপজেলায় চলছে মাইকিং। এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে উপকূলের সব মসজিদে মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে রোববার (২৩ অক্টোবর) রাত থেকে বৃষ্টির কারণে সকালে খুলনার রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা দেখা গেছে। সড়কে যানবাহন চলাচলও কম ছিল। এতে অফিসমুখী মানুষের ভোগান্তি ছিল চরমে। ঘূর্ণিঝড়কে কেন্দ্র করে উপকূলীয় এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলার মানুষের মধ্যে বাঁধ ভাঙার আতঙ্ক বিরাজ করছে।

খুলনা জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলার ২ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫০ জনের জন্য ৪০৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে দাকোপে ১১৮, বটিয়াঘাটায় ২৭, কয়রায় ১১৭, ডুমুরিয়ায় ২৫, পাইকগাছায় ৩২, তেরখাদায় ২২, রূপসায় ৩৯, ফুলতলায় ১৩ ও দিঘলিয়ায় ১৬টি।

খুলনা আবহাওয়া কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মো. আমিরুল আজাদ জানান, খুলনাসহ উপকূলীয় এলাকার জন্য সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ৪ নম্বর সতর্কতা–সংকেত নামিয়ে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত জারি করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের সময় ও এর আগে-পরে নদীতে জোয়ারের পানির উচ্চতা ৫ থেকে ৭ ফুট বৃদ্ধি পেতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি বরিশাল ও পটুয়াখালীর দিকে আঘাত হানতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এর প্রভাব খুলনা ও এর আশপাশেও পড়বে।

নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, লঞ্চ ও ফেরি চলাচল বন্ধ

ভোলায় ঝোড়ো হাওয়া ও মুষলধারে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। নদী ও সাগর মোহনা উত্তাল হয়ে ওঠায় সকাল থেকে ভোলার সব রুটে লঞ্চ ও ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকাল থেকে ভোলার বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের মানুষকে মূল ভূখণ্ডে আনার জন্য কার্যক্রম শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ভোলায় ঘণ্টায় ২৮ নটিক্যাল মাইল বেগে ঝোড়ো বাতাস বইছে।

রোববার রাত থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত জেলায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন ঢালচর, চরনিজাম ও চরপাতিলার নিন্মাঞ্চল। জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে অন্তত ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আবদুল সালাম হাওলাদার জানান, জোয়ারের কারণে প্লাবিত হয়েছে তার ইউনিয়নের ১০ হাজারের বেশি বাসিন্দা পানিবন্দি। এসব বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের লোকজন মাঠে কাজ করছে। তবে পানিবন্দি চরবাসী বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চাচ্ছে না। এরপরও তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে কোস্টগার্ড চর মানিকা কন্টিনজেন্ট কমান্ডার জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তারা চরফ্যাশনের বিচ্ছিন্ন চর ঢালচর, চর পাতিলাসহ আরও কয়েকটি চরের বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে আনার জন্য কাজ শুরু করেছেন।

জেলা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মাহবুবুর রহমান জানান, উপকূলীয় জেলা ভোলায় ৭ নম্বর বিপৎসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভোলায় ৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ঘণ্টায় ২৮ নটিক্যাল মাইল বেগে ঝোড়ো বাতাস বইছে।

ভোলা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, দুর্যোগকালীন সময়ে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া মানুষদের জন্য পর্যাপ্ত শুকনো খাবারের প্যাকেট প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ ছাড়া ২৫ মেট্রিক টন চাল ও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) উপপরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম জানান, মেঘনা নদী উত্তাল থাকায় সকাল থেকে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ভোলা থেকে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে।

এ দিকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক মো. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জেলার ৭৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। সাত উপজেলায় খোলা হয়েছে আটটি কন্ট্রোল রুম। গঠন করা হয়েছে ৭৬টি মেডিকেল টিম। দুর্যোগ মোকাবিলায় ১৩ হাজার ৬৬০জন সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।

টানা বর্ষণে বিপাকে শ্রমজীবীরা, প্রস্তুত ৭০৩ আশ্রয়কেন্দ্র

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে পটুয়াখালীর উপকূলজুড়ে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। রোববার (২৩ অক্টোবর) রাত থেকে উপকূলের বেশির ভাগ এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা রয়েছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছে না। টানা বর্ষণে বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবীরা। গত ২৪ ঘণ্টায় কলাপাড়ায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া বিভাগ। বৃষ্টির পানি জমে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। মাছ ধরার ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় সমুদ্রগামী সব ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক মাইকিং করছে কোস্টগার্ড, রেড ক্রিসেন্ট ও সিপিপি ভলান্টিয়াররা। দুর্যোগকবলিত এলাকার মানুষদের নিরাপদ আশ্রয় দিতে জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ইতিমধ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৭০৩টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ ২৬টি মুজিব কিল্লা।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ হোসেন জানান, জেলার প্রায় ১৬১টি পয়েন্টে ১৫ কিলোমিটারের অধিক বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ইতিমধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ১০ হাজার জিও ব্যাগসহ লোকবল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিভিন্ন নদ-নদীর পানি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে রাতের জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

জেলা বিআইডব্লিউটির উপপরিচালক মামুন অর রশীদ জানান, গতকাল থেকে ৬৫ ফুটের চেয়ে কম দৈর্ঘ্যের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৪ অক্টোবর) পটুয়াখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ডাবল ডেকার কোনো লঞ্চ ছাড়তে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

জেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ কর্মকর্তা সুমন দেবনাথ জানান, জেলায় প্রায় সাড়ে সাত হাজার স্বেচ্ছাসেবক মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে কাজ করছেন। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছাতে কাজ করছেন।

পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম জানান, জেলা পুলিশের ৯টি থানা, একাধিক তদন্ত কেন্দ্র ও ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা তাদের নিজ নিজ কর্ম এলাকায় প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করছেন। যেকোনো পরিস্থিতিতে পুলিশ সদস্যরা তৎপর রয়েছে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, মাইকিং করে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে সবাই কাজ করছে। ইতিমধ্যে ৭০৩টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ ২৬টি মুজিব কিল্লা বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি, পর্যাপ্ত শুকনা খাবার ও প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জামসহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষদের যাতে কোনোরকম কষ্ট না হয় সে বিষয়ে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। যেহেতু স্বাভাবিকের চেয়ে পানি ৩ থেকে ৫ ফুট বাড়ার সম্ভবনা রয়েছে তাই সবাইকে তাদের গবাদিপশু আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং মোকাবিলায় নোয়াখালীতে সরকারি সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। সোমবার (২৪ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এই কথা জানানো হয়।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সেলিম হোসেন বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে ৭ নম্বর স্থানীয় সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। নদী উত্তাল থাকায় জনগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের নৌ-চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। হাতিয়াতে ২৪২টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র এবং ৩ হাজার ৫৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ভোর থেকে বিভিন্ন উপজেলায় দমকা হাওয়ার সঙ্গে হালকা বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সোমবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলায় ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে ৮৯ মিলিমিটার পর্যন্ত। অর্থাৎ ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে ৭-৮ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে।

জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান জানান, নোয়াখালীর হাতিয়া, সুবর্ণচর, কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিন লাখ লোক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন  ৪০১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ১০১টি মেডিকেল টিম, ২৫০ মেট্রিক টন চাল, ৫ লাখ টাকা ও বিস্কুট ৭০০ কার্টুন মজুত রাখা হয়েছে। একটি কন্ট্রোলরুম চালু করেছে জেলা প্রশাসন। সরকারি কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিলসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ভারী ও গুড়িগুড়ি বৃষ্টিপাত

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বিকেলে জরুরি প্রস্তুতি সভা করেছে জেলা প্রশাসন। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে ফেনীতে থেমে থেমে ভারীবর্ষণ ও গুড়িগুড়ি বৃষ্টিপাতসহ দমকা হাওয়া বইছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় এরই মধ্যে জেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রস্ততি সভার মাধ্যমে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। জেলার সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল সোনাগাজীতে রেডক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক থাকতে এবং আশ্রয় কেন্দ্রে আসার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসানের সভাপতিত্বে সভায় পুলিশ সুপার জাকির হাসান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সিপিপি ও রেড ক্রিসেন্টকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলা প্রশাসক জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জেলায় ৪৩টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে ৬৭টি মেডিকেল টিম। এছাড়া জরুরিভিত্তিতে ২৫ টন চাল, নগদ পাঁচ লাখ টাকা এবং এক হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার সরকার থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে উপজেলায় লোকজনকে নিরাপদে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনতে প্রশাসনের পাশাপাশি কাজ করছে দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবী। এছাড়াও সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিজস্ব কার্যালয়ে ‘ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং মোকাবিলা সভা’ অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় সকলকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে। এজন্য ২৩ হাজার মানুষের ধারণ ক্ষমতা ৪৩টি সাইক্লোনশেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে এবং ১৪টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

মাঠে দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবকসহ আনসার ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা একযোগে কাজ করছেন। পাশাপাশি নগদ পাঁচ লাখ টাকা ২৫ মেট্রিকটন চালসহ পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনো খাবার প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিলসহ ইউপি চেয়ারম্যানদের মাঠে থেকে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রের কোনো মানুষ খাওয়ায় যেন কষ্ট না পায় সেদিকে খেয়াল রাখা হয়েছে। প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত মোমবাতি থাকবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা-বাহিনীর সদস্যরাও সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।
 

স্বদেশ বিভাগের আরো খবর

Link copied!