• ঢাকা
  • রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১, ৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ, ৪ পুলিশ অবরুদ্ধ


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ২১, ২০২১, ০৮:৪৩ পিএম
শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ, ৪ পুলিশ অবরুদ্ধ

কুড়িগ্রামের কচাকাটায় আবারও জনতার তোপের মুখে পড়েছে পুলিশ। শনিবার সকালে কচাকাটা থানার বলদিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় এক প্রধান শিক্ষককে অপদস্থ করায় চার পুলিশ সদস্যকে অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ জনতা। রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে পুলিশের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়ে তাদের ছাড়িয়ে নেন ওসি। 

স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকার উপেন্দ্রনাথ বাবু  ও আব্দুল মালেকের ছেলে খোকনের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনে। শনিবার সকালে উপেন্দ্রনাথের দখলে থাকা বিরোধপূর্ণ জমিতে চাষ করতে যান। বিরোধী পক্ষ খোকন চাষ বন্ধে পুলশের সহায়তা নিলে কচাকাটা থানার এসআই রবিউল ইসলাম, এএসআই মশিউর রহমান দুই কনষ্টেবল ঘটনাস্থলে গিয়ে চাষ বন্ধ করে দিয়ে পাওয়ার টিলারের দুটি হেন্ডেল নিয়ে উপেন্দ্রনাথ বাবুকে জোর করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

পুলিশ উপেন্দ্রনাথকে নিয়ে বলদিয়া বাজারে পৌছলে বলদিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার সরকার বিষয়টি জানতে চাইলে প্রথমে এসআই রবিউল তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। আচরণের বিরোধিতা করলে তাকেও থানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য হাত ধরে টানেন। স্কুলে তালা লাগানোসহ এলাকার সবার ঘুম হারাম করারও হুমকি দেন এসআই রবিউল। এতে উপস্থিত লোকজন চড়াও হয়ে ওই চার পুলিশ সদস্যকে অবরুদ্ধ করে। রাস্তায় ড্রাম ফেলে সড়কে চলাচল বন্ধ করে দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। 

পরে কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেনসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। বলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত স্থানীয় লোকদের সাথে আলোচনা শেষে ব্যবহারের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়ে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের থানায় নিয়ে যান।

উপেন্দ্রনাথ জানান, তার জমি চাষ করতে গেলে খোকনের পক্ষে পুলিশ এসে বন্ধ করে দেয়। পাওয়ার টিলারের হেন্ডেল নেয়। আমাকেও সঙ্গে থানায় যেতে ধরে। পথে হেডমাস্টার বিষয়টি জানতে চাইলে তাকে অপমান করে এসআই রবিউল। এতে ক্ষুব্ধ হয় স্থানীয়রা।

এলাকার মাহামুদ হাসান বলেন, ওই এসআই প্রধান শিক্ষকে অপমান করেন। নিয়ে যেতে চায়। স্কুলে তালা লাগানোর হুমকি দেন। স্থানীদের ঘুম হারাম করে দেওয়ার হুমকি দেন। এতে সবাই ক্ষেপে যায়।

প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার সরকার বলেন, পরিচয় দিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে এসআই উপেন্দ্রনাথের সঙ্গে আমাকেও থানায় নিয়ে যেতে চেয়ে ধমক দেন। পরে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। পুলিশ তাদের ভুল স্বীকার করেছে। এসআই রবিউল ইসলাম জানান, বিরোধপূর্ণ জমিতে সংঘর্ষের আশঙ্কায় ওসির নির্দেশে দায়িত্ব পালন করতে গেলে জনগণ সিনক্রিয়েট করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

কচাকাটা থানার ওসি (তদন্ত) কামাল হোসেন জানান, জমাজমি নিয়ে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে স্থানীয় একজন ফোনে জানালে চার পুলিশ সদস্যকে পাঠানো হয়। সেখানে ভুল বোঝাবুঝি কারণ এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও সমঝোতা করা হয়েছে। 

এর আগে সাম্প্রতিক সময়ে কচাকাটা থানা পুলিশ দুইবার জনগণের হাতে অবরুদ্ধ হয়। একটি ঘটনায় ১২জনকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ।

Link copied!