• ঢাকা
  • বুধবার, ১৯ জুন, ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১, ১২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

সিনহা হত্যা মামলা : দ্বিতীয় দফায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু


কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২১, ১১:০৬ এএম
সিনহা হত্যা মামলা : দ্বিতীয় দফায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু

বহুল আলোচিত মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজের দ্বিতীয় দফার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ঘোষিত সময় অনুযায়ী রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) থেকে বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এই সাক্ষ্য গ্রহণ চলবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম।

ফরিদুল আলম জানান, গত ২৩ আগস্ট সিনহা হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়েছে। প্রথম দফায় নির্ধারিত তিন দিনের সাক্ষ্য গ্রহণে মেজর সিনহার বোন ও মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস ও সিনহা হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী সিফাতের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

এই মামলার মোট ৮৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে বলে জানান ফরিদুল আলম। তিনি বলেন, “সাক্ষ্য গ্রহণের সময় ওসি প্রদীপসহ মামলার ১৫ আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হবে।”

এদিকে প্রথম দুই সাক্ষীর জবানবন্দিতে সিনহা হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন সাক্ষ্য গ্রহণে অংশ নেওয়া আইনজীবীরা। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে সিফাত আদালতকে বলেন, “২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে লিয়াকত আলীর গুলিতে রাস্তায় ঢলে পড়ে কাতরাচ্ছিলেন সিনহা মো. রাশেদ খান। টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমে লিয়াকত আলীর সঙ্গে আড়ালে গিয়ে কথা বলেন। এরপর সিনহার কাছে গিয়ে উত্তেজিত কণ্ঠে আপত্তিকর ভাষায় গালমন্দ করেন প্রদীপ। পরে তিনি নিজের পা দিয়ে সিনহার শরীর নড়াচড়া করে দেখেন। তখনো সিনহা জীবিত ছিলেন এবং ‘পানি পানি’ করছিলেন। তখন প্রদীপ সিনহার বুকে লাথি মারেন এবং পা দিয়ে গলা চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। তল্লাশিচৌকির ভেতরে নিয়ে তাকেও (সিফাতকে) মারধর করেন প্রদীপ।”

বাদী শারমিন ফেরদৌস আদালতকে বলেন, “ফোনে পরিদর্শক লিয়াকত বলেছে, ‘টার্গেট ফেলে দিয়েছি, তোরা তাড়াতাড়ি আয়।’ আরেক ফোনে তিনি বলেন, ‘স্যার একটাকে ডাউন করেছি, আরেকটারে ধরে ফেলেছি।’ সিনহা পানি ও শ্বাস নিতে চাইলে লিয়াকত গালাগাল করে কোমরে লাথি মেরে ফেলে দেন এবং মাথা চেপে ধরেন। এরপর পুলিশ এলে লিয়াকত নির্দেশ দেন আশপাশের মানুষকে ভয় দেখাতে, যাতে কেউ সিনহাকে সাহায্য করতে না পারে, ছবি বা ভিডিও করতে না পারে। আমার ভাইকে হত্যা করার পর ইন্সপেক্টর লিয়াকতের কথোপকথনের একটি অডিওতে বিশ্ববাসী এসব কথোপকথন শুনেছে। আমি ওসি প্রদীপ-লিয়াকতসহ জড়িতের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। তার সঙ্গে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাতকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এরপর সিনহা যেখানে ছিলেন, সেই নীলিমা রিসোর্টে ঢুকে তার ভিডিও দলের দুই সদস্য শিপ্রা দেবনাথ ও তাহসিন রিফাত নুরকে আটক করে। পরে তাহসিনকে ছেড়ে দিলেও শিপ্রা ও সিফাতকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এই দুজন পরে জামিনে মুক্তি পান। সিনহা হত্যার ঘটনায় মোট চারটি মামলা হয়।

Link copied!